মেইন ম্যেনু

খান সাহেবের মর্জি!

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। কিন্তু বিএফডিসির মুক্তিযোদ্ধা জসিম শুটিং ফ্লোরে তখনও কিছু মানুষের জটলা। কারণটা জানার জন্য ভিতরে ঢুঁ মারলাম। কিন্তু একি! এতো দেখি পুরো বিয়ে বাড়ি। ফ্লোরের একপাশে হলুদ গাঁদা ফুল আর বাহারি পাতা দিয়ে সাজানো ফাঁকা একটি মঞ্চে চোখ আটকে গেল। সেখানে কারুকাজ করে লেখা রয়েছে ‘বিথীর গায়ে হলুদ’। মঞ্চের সামনে বেশ কিছু চেয়ার টেবিল এলোমেলো ভাবে পড়ে রয়েছে। বেশির ভাগ অতিথিই বসে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। ফ্লোরে আরেক পাশে আলো নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন আড্ডা দিচ্ছে দেখে এগিয়ে গিয়ে জানতে চাইলাম, শুটিং কখনও শুরু হবে? আড্ডার মধ্যমনি একজন মুখে চোরা হাসি দিয়ে বললেন, ‘খান সাহেবের মর্জি! তিনি যখন আসবেন, তখনই শুটিং শুরু হবে।’

মূলত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে বিএফডিসির মুক্তিযোদ্ধা জসিম শুটিং ফ্লোরে শফিক হাসানের পরিচালনায় ‘ধূমকেতু’ ছবির শেষ লটের শুটিং শুরু হয়। তিন দিনের মধ্যে শুটিং শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় শুটিং শেষ হওয়ার খবর নেই। তবে প্রোডাকশানের দায়িত্বে থাকা একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানালেন, ‘বিকেল থেকেই শকিব খানের অংশের শুটিং শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু তিনি না আসায় এখনও শুটিং শুরু করা যাচ্ছে। তিনি আসতে দেরি হতে পারে। তবে আজই শুটিং শেষ করা হবে।’

মূল বিষয়টা জানার জন্য পরিচালককে খুঁজতে লাগলাম। কিন্তু তিনি লাপাত্তা। তাই মেকআপ রুমে ঢুঁ মারলাম। সেখানে হলুদ শাড়ি গায়ে জড়িয়ে বসে আছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। তিনি জানাতে পারলেন না কখন শুটি শুরু হবে। অন্যদিকে শুটিং ফ্লোরে মুখে লাল রঙ মেখে বসে আছেন অভিনেতা অমিত হাসান। তার কাছে শুটিং বিষয়ে প্রশ্ন করতেই হাসি মুখে বললেন, ‘আমার ও পরীমনির অংশের কিছু দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। বাকিটা শাকিব খান আসলেই শুরু হবে।’

এদিকে হঠাৎই দেখা মিললো পরিচালক শফিক হাসানের। তিনি জানালেন, ‘ছবি কাজ প্রায় শেষ। শাকিব খান আসলেই, কয়েকটা অ্যাকশন দৃশ্য ধারন করা হবে। এর মধ্য দিয়েই শেষ হবে ধূমকেতু।’

পরিচালকের কথা আস্বস্থ হয়ে, শাকিব খানের অপেক্ষায় এফডিসির এদিক সেদিক ঘুরতে লাগলাম। হঠাৎ তাকিয়ে দেখি ঘড়ির কাঁটা ৮টার ঘর পেরিয়ে গিয়েছে। ভাবলাম খান সাহেবকে বুঝি আর পাওয়া গেল না। তাই বাড়ির পথে হাঁটা ধরলাম। এমন সময় পেছনে একজন ডাক দিয়ে বললেন, শাকিব খান তো মেকআপ রুমে। হাজির হলাম শুটিং ফ্লোরে ।

রাত তখন প্রায় ৯টা, অল্প সময়ের মধ্যেই মেকআপ নিয়ে সেটে হাজির হলেন শাকিব খান। অমনি যেন, সবার প্রাণ ফিরে এলো। পরিচালকের নির্দেশে ক্যামরা অন হলো। প্রথমেই টেবিলের উপর রাখা একটি ফুলের টবে লাথি মেরে মেঝে ফেলা দেয়ার দৃশ্য ধারণ করা হলো। এভাবেই মাঝরাত অব্দি চললো শুটিং।

যাই হোক ‘ধূমকেতু’র পরিচালক এ যাত্রায় খান সাহেবের নাগাল পেলেন। কিন্তু দুইদিন আগে প্রয়াত সাংবাদিক আওলাদ হোসেনের মরদেহে সবাই যখন ফুলের তোড়া, স্মৃতিচারণ আর অশ্রুসজল চোখে বিদায় দিচ্ছিলেন শাকিব খান তখন মেকআপ রুমের এসিতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। কারণ শুটিং নিয়ে তিনি খুব সিরিয়াস…



(পরের সংবাদ) »