মেইন ম্যেনু

খাবারের জন্য ১০৯৮-এ ফোনকলের আবেদন ভূয়া!

আপনার বাড়ির অনুষ্ঠানে খাবার অতিরিক্ত হলে অনুগ্রহ করে ফেলে দেবেন না। ১০৯৮ নম্বরে ফোন করুন। চাইল্ড হেল্প লাইন থেকে এসে খাবারগুলি নিয়ে যাবে। আপনার অতিথিদের খাইয়েও বেঁচে যাওয়া খাবারটুকু অভুক্ত বা অর্ধভুক্ত শিশুগুলির মুখে কি তুলে দেবেন না?’ এই বাক্যগুলোর নিচেই লেখা, অন্যদের জানাতে পোস্টটি শেয়ার করুন।

কয়েক দিন ধরে ফেসবুকে এ ধরনের একটি পোস্ট দেখা যাচ্ছে। আর অভুক্ত শিশুদের জন্য সবাই যে যার মতো পোস্টটি শেয়ার দিচ্ছেন। এতে বিপাকে পড়েছে বেসরকারি সংগঠন অপরাজেয় বাংলাদেশ। কেননা চাইল্ড হেল্প লাইনের ১০৯৮ নম্বরটি তাদের। তবে এই নম্বরের বরাত দিয়ে যে কথাগুলো বলা হয়েছে, তা ওই সংগঠনের বক্তব্য নয়। হেল্প লাইনে এ ধরনের কোনো সেবাও তারা দেয় না।

সংগঠনটি বলছে, শিশু নির্যাতন বা অন্য কোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে শিশু, তার অভিভাবক বা অন্য যে কেউ টোলফ্রি নম্বরটিতে ফোন করে সহায়তা চাইলে কাউন্সেলিংসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়। অথচ ফেসবুকে ছড়ানো হচ্ছে, এ নম্বরে ফোন দিলে সেখান থেকে লোক বাড়ি বাড়ি গিয়ে অতিরিক্ত বা বেঁচে যাওয়া খাবারগুলো নিয়ে আসবেন।

এ ব্যাপারে জানতে অপরাজেয় বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু বলেন, এ ধরনের পোস্ট আমরা দিইনি। দেওয়ার প্রশ্নও আসে না। কেননা কারও বেঁচে যাওয়া বা ফেলে দেওয়া বাসি, পান্তা খাবার আমরা শিশুদের খাওয়ার জন্য কখনোই কুড়িয়ে আনতে যাব না।

ওয়াহিদা বানু আরও বলেন, কেউ একজন নিজ দায়িত্বে এ ধরনের পোস্ট দিয়েছেন। তিনি হয়তো ভেবেছেন, হেল্প লাইন এ ধরনের কাজই করে। আর অন্যরাও কাজটিকে খুব ভালো মনে করে সমানে শেয়ার দিচ্ছেন। আমাদের জনবল এখন এ-সংক্রান্ত ফোন রিসিভ করতে করতে হয়রান হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলছেন, তবে যারাই ফোন দিচ্ছেন, তাদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে কেউ যদি আমাদের সেন্টারে থাকা পথশিশু, বস্তিবাসী শিশুসহ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খাবার বা টাকা পয়সা দিয়ে সহায়তা করতে চান, আমরা তাকে সব সময় স্বাগত জানাই। তবে তাকে এলাকার সেন্টারে থাকা সব শিশুর জন্য করতে হবে।