মেইন ম্যেনু

খালেদাকে দিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন হবে না

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর আন্দোলনে সফল হতে পারবেন কি না সে বিষয়ে সংশয় জানিয়েছেন সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপি নেত্রীকে পরামর্শ দিয়ে আসা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। খালেদা জিয়া ঘরে বসে থেকে আন্দোলন করতে চান মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ঘরে বসে থাকলে আপনাকে দিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন হবে না। পৃথিবীর কোনো আন্দোলন ঘরে বসে হয়নি।’

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক ভাবনা কর্তৃক আয়োজিত ‘প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ-বর্তমান প্রেক্ষাপট-আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ঘরে বসে আন্দোলন হয় না। গতকাল (রবিবার) ছিল জিহাদ দিবস। খালেদা জিয়া বাসায় বসে বাণী দিচ্ছেন। তিনি কোনো কর্মসূচি দিতে পারলেন না। পুলিশ বা সরকার অনুমতি না দিলে অন্তত কার্যালয়েও বসেও কর্মসূচি পালন করতে পারতেন। তাতেও ৫০০/৬০০ লোক আসতো।’

চিনপন্থি বাম নেতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী গত কয়েক বছর ধরেই বিএনপির অনেক কাছাকাছি এসেছেন। খালেদা জিয়াকে প্রায়ই তিনি নানা পরামর্শ দেন নানা বক্তব্য-বিবৃতিতে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসনকে দুটি খোলাচিঠি লিখেন গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা। এতে আন্দোলনে সফল হতে কী কী করতে হবে, বিএনপিকে গণমুখি দলে পরিণত হতে কী কী করতে হবে, আগামীতে ক্ষমতায় আসলে বিএনপির কী কী করা উচিত সে বিষয়ে আগাম ঘোষণা দেয়ার পরামর্শও দেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

সরকারের কট্টর সমালোচক জাফরুল্লাহ্ প্রায়ই বিএনপিপন্থি সংগঠনের আলোচনায় অতিথি হিসেবে যোগ দেন। নানা সময় খালেদা জিয়া তাকে ডেকে নিয়ে কথাও বলেছেন। তবে জাফরুল্লাহ খালেদা জিয়াকে যেসব পরামর্শ দেয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিএনপি সেভাবে ব্যবস্থা নেয়নি।

গোলটেবিল আলোচনায় জাফরুল্লাহ বলেন, ‘খালেদা জিয়া মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন’। তিনি বলেন, আমি আশ্চর্যান্বিত হই তিনি ঘরে বসে আন্দোলন করছেন। বাণী দিচ্ছেন। বিবৃতি দিচ্ছেন। তিনি মাঠে নামছেন না। আন্দোলন করতে হলে তাকে রাস্তায় নামতে হবে।’

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বিএনপিপন্থি এই বুদ্ধিজীবী বলেন, ‘আজকে আমরা কেউ নিরাপদ নই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়াসহ দেশের কোনো নাগরিকই আজকে নিরাপদ নন।’

গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক ভাবনার সভাপতি হাবিবুর রহমান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকৌশলী ম ইনামুল হক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক প্রমুখ।