মেইন ম্যেনু

খালেদার অনুদানের টাকা খেল ছাত্রদল!

২০১৪ সালে ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রদলের এক নেতার মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে আর্থিক অনুদান দিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু সেই টাকার পুরোটা নিহতের পরিবারকে না দিয়ে এর একটা অংশ নিজেদের পকেটে পুরেছেন ছাত্রদলের দুই নেতা।

এই অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রুকনুজ্জামান রুকন ও গফরগাঁও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাহিবুর রহমান নাছিমের বিরুদ্ধে।

নিহত ছাত্রদল নেতা হলেন গফরগাঁও পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইবনে আজাদ কমল।

পরিবারের অভিযোগ থেকে জানা গেছে, রুকন ও নাছিমের কাছে থাকা অনুদানের বাকি টাকা কয়েক দফা চাওয়ার পরও তা না পেয়ে শেষ পর‌্যন্ত খালেদা জিয়ার কাছে অভিযোগ করেছেন কমলের পরিবার। গত সোমবার রাতে কমলের বাবা গুলশানের রাজনৈতিক কার‌্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লিখিত অভিযোগ দেন।

এর অনুলিপি দেয়া হয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানকে।

২০১৪ সালের ৭ আগস্ট ইবনে আজাদ কমল সন্ত্রাসী হামলায় আহত হন। পরের দিন ৮ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গফরগাঁওয়ের স্থানীয় ছাত্রলীগের তিন নেতাকে আসামি করে কমলের বাবা আবুল কালাম বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।

পরে ওই বছরের ২৩ নভেম্বর কমলের স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের ভরণপোষণের অনুদান দিতে তার পরিবারকে গুলশান কার্যালয়ে ডাকা হয়। সেখানে কমলের স্ত্রী খাদিজা আক্তারের হাতে অনুদানের তিন লাখ টাকার চেক তুলে দেন খালেদা জিয়া। একই সময়ে গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি ও বর্তমানে ময়মনসিংহ (দক্ষিণ) জেলার ভাইস চেয়ারম্যান এ বি সিদ্দিকুর রহমানের সহায়তায় পরিবারের নামে পাঁচ লাখ টাকার একটি স্থায়ী ডিপোজিট করে দেয়া হয়।

নিহত কমলের বাবা বলেন, “চার ছেলের মধ্যে এক ছেলে ছোট বয়সে মারা গেছে। তিনজনের মধ্য থেকে কমলকে হারালাম। ও-ই ছিল সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম। কমলের ছেলে রাতুলকে তার বাবার পছন্দের একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে নার্সারিতে পড়াচ্ছি। তার স্কুলের পেছনেই প্রতি মাসে খরচ হয় দুই হাজার টাকা। কীভাবে চলব জানি না।”

খালেদা জিয়ার দেয়া অনুদানের টাকা না পাওয়া প্রসঙ্গে আবুল কালাম বলেন, “অনুদানের চেক দেয়ার কিছুদিন পর আমাদের না জানিয়ে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রুকনুজ্জামান রুকন ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাহিবুর রহমান নাছিম টাকা তুলে নেন। পরে আমাদের হাতে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেন। বাকি টাকা আর দেয়নি। পরে কয়েক দফা চাওয়ার পর কিছু টাকা দিয়ে এক লাখের বেশি টাকা আর দেয়নি। টাকা চাইতে গেলে আমাদের গালিগালাজ করে। রুকনের কাছে চাইতে গেলে সে বলে নাছিমের কাছে যান, নাছিমের কাছে গেলে বলে রুকনের সঙ্গে কথা বলেন। আমি জেলা বিএনপির সবার কাছে অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।”

কমলের বাবা বলেন, “জেলার নেতারা কোনো সমাধান দিতে পারেননি বলে বাধ্য হয়ে গত সোমবার বেগম খালেদা জিয়ার কাছে অভিযোগ দিয়েছি। তিনি সঙ্গে সঙ্গে তার বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাসকে বিষয়টি দেখে সমাধানের জন্য বলেন।”

তবে শিমুল বিশ্বাস  বলছেন বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি বলেন, “কে কাকে টাকা দিয়েছে, কে দেয়নি, তা আমার জানা নেই। চেয়ারপারসনের কাছে এমন কোনো অভিযোগ এলে তা তো আমি আগে জানব। আপনি কীভাবে জানলেন?” ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে জানালে তিনি বলেন, “আপনি তো আন্দাজে কথা বলছেন।”

ভিকটিমের পরিবারকে তার কাছে পাঠিয়ে দিতে বলে শিমুল বিশ্বাস এই প্রতিবেদককে বলেন, “আর আপনার পার্সোনাল কোনো ইন্টারেস্ট থাকলে বলেন সলভ করে দিব।”

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে এ বি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “আমি বিষয়টি জানি, শুনেছি। কিন্তু ছাত্রদলের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। তবে একজন মৃত মানুষকে দেখিয়ে এভাবে টাকা না দেয়ার বিষয়টি জঘন্য। এটা মানা যায় না। তবে আমি এই পরিবারের পাশে আছি, থাকব।”

অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করলে গফরগাঁও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাহিবুর রহমান নাছিম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “কমল মারা যাওয়ার পর উপজেলা ছাত্রদল ম্যাডামের (খালেদা) মাধ্যমে দুই লাখ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। এ থেকে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক গফরগাঁওয়ের শাখা থেকে একবারে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা কমলের পরিবারকে দেয়া হয়। তার দাফনের দিনে ১০ হাজার টাকা দেই। এ ছাড়া কমলের স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়ের সময়ও উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল আজিজ সাদেকের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয়। ওই সময় জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু পরে আন্দোলনের জেরে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আত্মগোপনে থাকায় তা দিতে পারেননি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা টাকা দেবেন।”

এ বি সিদ্দিকুর রহমানের অভিযোগের বিষয় নাছিম বলেন, “তিনি মিথ্যা বলছেন। জেলার সব অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে টাকা তুলে ফিক্সড ডিপোজিট করে দিয়েছেন। তিনি তো কোনো টাকা দেননি।”ঢাকাটাইমস