মেইন ম্যেনু

খালেদার আত্মপক্ষ সমর্থন ফের পিছিয়ে ১১ আগস্ট

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্যে আগামী ১১ আগস্ট ফের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশিবাজারস্থ আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু আহমেদ জমাদার এই দিন ধার্যের আদেশ দেন।

এর আগে আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে মামলার প্রধান আসামী খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় তার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আদালতে দুটি আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।

একইসঙ্গে মামলার বাদিকে পুনরায় জেরা করার দুটি রিভিশন আবেদন হাইকোর্টে খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেন খালেদা জিয়া। ফলে খালেদার আপিল আবেদন হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় থাকায় আদালতের কাছে আত্মপক্ষ সমর্থনে সময় পেছানোর আবেদন করেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও জিয়া উদ্দিন জিয়া।

অপরদিকে এ মামলায় শুনানির অপেক্ষায় থাকা হাইকোর্টে খালেদার আপিল আবেদনের বিষয়ে সার্টিফাইড কপি আদালতে দাখিল করেন খালেদার আইনজীবীরা।

এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল উক্ত আবেদনের বিরোধিতা করেন এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বারবার দাখিলকৃত আবেদনের ফলে মামলায় দীর্ঘসূত্রিতা হচ্ছে বলে বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

পরে আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আবেদন বিবেচনা করেন এবং আবেদন মঞ্জুর করে মামলার পরবর্তি তারিখ নির্ধারণের আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দায়ের করা হয়। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।

অন্যদিকে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।

দুই মামলারই বাদী হলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ খান।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত ১ কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি।

জমির মালিককে দেয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে মোট ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ খান।