মেইন ম্যেনু

খালেদার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ওসিকে তদন্তের নির্দেশ

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে বলে মন্তব্য করা এবং শহীদদের সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ রবিবার সকালে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমানের আদালতে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি মশিউর মালেক মামলাটি করেন। পরে দুপুরে শুনানি শেষে বিচারক ওই আদেশ দেন।

বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১২৩ (ক) ধারায় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিন্দা এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিলোপে সমর্থনের অভিযোগে মামলাটি করা হয়।

বিচারক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর আদেশে উল্লেখ করেন, “দণ্ডবিধির ১২৩ (ক) ধারার অপরাধ আমলে গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমতি গ্রহণ করা আবশ্যক। ঘটনার গুরুত্ব ও স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে অভিযোগের সত্যতা উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে তদন্তের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক। তাই সরকারের অনুমতি গ্রহণ সাপেক্ষে মামলায় বর্ণিত অভিযোগের বিষয়ে ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচে নয় এমন কর্মকর্তাকে দিয়ে অভিযোগের তদন্তপূর্বক আইোনুগ ব্যবস্থা নিতে শাহবাগ থানাকে নির্দেশ দেওয়া হলো।”

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২১ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, “তিনি তো (বঙ্গবন্ধু) বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি, তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। আজকে বলা হয়, এত শহীদ হয়েছে, এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে।” এই বক্তব্য পরদিন বিভিন্ন জাতীয় পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। উক্ত বক্তব্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নিয়ে কটাক্ষ করে, স্বাধীনতাযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, যা দণ্ডবিধির ১২৩(ক) ধারার অপরাধ।”

খালেদা জিয়ার একই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নড়াইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৪ ডিসেম্বর নড়াইলের নড়াগাতি থানার চাপাইল গ্রামের রায়হান ফারুকী ইমাম মানহানির অভিযোগে একটি মামলা করেন। আদালত ওই অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।