মেইন ম্যেনু

খালেদার সঙ্গে বসছেন কাদের সিদ্দিকী

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশের বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজায়’ এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে তার প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান নিশ্চিত করেছেন।

এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার (২ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশের বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমি বলেছি, দলীয় ফোরামে আলোচনা করে এ ব্যাপারে জানাবো। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী ৪ আগস্ট মাগরিবের নামাজের পর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করবে। ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে নয়, বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে। তিনি প্রকৃত বিরোধী দলের নেত্রী। তার সঙ্গে বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে যাবো।’

খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমানের বেশকিছু বিতর্কিত বক্তব্য নিয়ে কথা বলবেন জানিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বলেন, ‘বিএনপি নেত্রীকে বলবো- আপনার ছেলেকে একটু বলুন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের এক নম্বর প্রেসিডেন্ট নন, সম্ভবত ৭ নম্বর প্রেসিডেন্ট। এক নম্বর বলে প্রতিষ্ঠিত করার দরকার নাই। আর বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান বন্ধু নন, বাংলাদেশের বন্ধু।’

গত ১ জুলাই গুলশানের রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলার পর বেগম খালেদা জিয়া আহূত সন্ত্রাস-উগ্রবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্য নিয়ে সরকারের কাছ থেকে সাড়া না পাওয়ায় বিএনপি এখন সন্ত্রাস বিরোধী ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ গঠনের পথে এগুচ্ছে। ২০ দলীয় জোট এবং ১৪ দলীয় জোটের বাইরে অবস্থানরত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ও প্রগতিশীল দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে একটা প্লাটফর্ম গঠন করতে চায় বিএনপি। তবে ওই প্লাটফর্মে ২০ দলীয় জোটের বাকি দলগুলোকে রেখে শুধু জামায়াতে ইসলামীকেও বাদ দেয়া হতে পারে।

এ লক্ষ্যে কাদের সিদ্দিকীর পর পর্যায়ক্রমে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম, আ স ম আবদুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি), অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দৌজা চৌধুরীর বিকল্পধারা বাংলাদেশ, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, কমরেড সাইফুল হকের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, কমরেড খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ দলগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে বিএনপির প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।