মেইন ম্যেনু

খালেদা ‘দেশদ্রোহী’, নির্বাচন দিয়ে প্রমাণ করুন

‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ‘দেশদ্রোহী না দেশনেত্রী’ তা প্রমাণে অবিলম্বে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে দেখুন।’ সরকারের প্রতি এভাবেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম।

তিনি বলেছেন, ‘দেশে যদি গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার থাকতো এবং আগামী একমাসের মধ্যে কোনো কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাহলে দেখা যাবে- কে দেশদ্রোহী আর কে দেশনেত্রী।’

শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন হাফিজ। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল এ সভার আয়োজন করে।

মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রপরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে এখন জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ফেরাতেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দিয়েছে। এ মামলার কোনো ভিত্তি নেই।’

প্রসঙ্গত, গত ২১ ডিসেম্বর রাজধানীতে মুক্তিযোদ্ধা দলের এক সমাবেশে খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকে বলা হয় এতো লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে, আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানা রকম তথ্য আছে।’ খালেদা জিয়ার ওই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাও হয়। আদালত মামলা আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।

খালেদা জিয়ার ওই বক্তব্য সমর্থন করে মেজর হাফিজ বলেন, ‘তিনি (খালেদা) কী এমন আপত্তিকর কথা বলেছেন? তিনি সেদিন অন্যদের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করেছিলেন। তিনি শহীদদের পূর্ণ সম্মান দিতে চান। আমরা মুক্তিযোদ্ধারাও চাই, শহীদদের সঠিক সংখ্যা নিরুপন হোক। তাদের আরো সুযোগ-সুবিধাসহ উচ্চ সম্মান দেয়া হোক। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এই সরকারের সেই ধরনের কোনো মন-মানসিকতা নেই।’

এ প্রসঙ্গে হাফিজ আরো বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) এমন কি বললেন যে, দেশ রসাতলে গেলো? নামগোত্রহীন এক উকিল তার নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, যাকে কেউ চেনে না। যিনি (খালেদা) মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানিদের হাতে দু’টি সন্তানসহ ছয় মাস বন্দি থাকলেন, নির্যাতন ভোগ করলেন, তিনি আজ দ্রেশদ্রোহী হয়ে গেলেন। আর যারা পালিয়ে বেড়ালো তারা হয়ে গেলেন মুক্তিযোদ্ধা।’

সরকারকে ‘মামলাবাজ’ আখ্যায়িত করে বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘সরকারের কাছে আহ্বান জানাবো, মামলাবাজি বন্ধ করুন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করুন, বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করুন। যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মামলার জন্য অনুমতি দিয়েছেন, তাদেরকে একদিন ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। এই ধরনের মিথ্যা মামলাবাজি করে বাংলাদেশে কেউ পার পেয়ে যাবে না। এই সরকারও শেষ সরকার নয়।’

মেজর হাফিজ বলেন, ‘যেভাবে সরকার মামলাবাজি শুরু করেছে তাতে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নামে দেশদ্রোহিতার মামলা হলেও মোটেই আশ্চর্য হবো না।’

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সরকারের আইন প্রণয়নের উদ্যোগের সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আইন প্রণয়ন করে কোনো শ্রদ্ধা বা সম্মান পাওয়া যায় না। বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে আইন করতে যাচ্ছে তা অর্থহীন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাদের (আওয়ামী লীগ) কারো কথা পছন্দ না হলে তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হবে, সে যদি মুক্তিযোদ্ধাও হয়।’

মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন- ২০ দলীয় জোট শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, রাশেদা বেগম হীরা, আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শফিকুজ্জামান খোকন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল বাশার, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান প্রমুখ।