মেইন ম্যেনু

খালেদা-হাসিনা একই বৃন্তে দুটি ফুল : রিপন

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির তিন মাসের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময়ে সৃষ্ট নাশকতার আন্তর্জাতিক তদন্ত চেয়েছে দলটি।

বিএনপি কখনো নাশকতার সঙ্গে জড়িত ছিল না দাবি করে দলটি বলছে, এই সরকারের অধীনে স্বাভাবিক তদন্ত হলে তদন্তকারীদের কাছ থেকে ন্যায়সংগত তদন্ত আশা করা যাবে না। সে জন্য জাতিসংঘের অধীনে একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন দলটির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন।

তিনি বলেন, ‘নাশকতার জন্য বিএনপি নেত্রী হুকুম দিয়েছেন বলে সরকার অভিযোগ করছে এবং এর সঙ্গে বিএনপির নেতারা যুক্ত বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু বিএনপি বা তার কোনো নেতা পেট্রোল বোমা বা এই ধরনের কোনো নাশকতার সঙ্গে জড়িত নয়। এই দল নাশকতায় নয়, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘আন্তর্জাতিক তদন্ত হলে নাশকতায় সত্যিকার অর্থে কারা জড়িত তা বেরিয়ে যাবে। তখন বিএনপির চেয়ারপারসনের কথার যথার্থতা প্রমাণিত হবে- এই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চাই। কিন্তু আন্তর্জাতিক তদন্ত না করে যদি বিরোধী দল বা শীর্ষ নেতৃত্বকে ধ্বংস করার চেষ্টা চালানো হয়, তাহলে গণতন্ত্রের জন্য ভালো হবে না।’

খালেদা-হাসিনাকে একই বৃন্তে দুটি ফুল আখ্যা দিয়ে রিপন বলেন, ‘তাদের দুজনের একজনকে বিনাশ করা যাবে না। একজনের বিনাশ ঘটলে অন্যজনেরও বিনাশ ঘটবে। বিএনপির বিনাশ হলে আওয়ামী লীগেরও বিনাশ হবে আর আওয়ামী লীগের বিনাশ ঘটলে বিএনপিরও বিনাশ ঘটবে।’

‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ব্যাঘাত ঘটলে দেশে অশুভ শক্তির উত্থান ঘটবে’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের এমন বক্তব্যের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করে পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে রিপন বলেন, ‘এই উপলব্ধির জন্য তাকে স্বাগত জানাই। তবে এটা বলতে পারি, শুভ বা অশুভ নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে অনিবার্যভাবে বিকল্প শক্তির উত্থান ঘটবে। তখন কারো কিছু করার থাকবে না।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা যদি রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করেন তবে বিকল্প শক্তি এসে তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করালে তখন আত্মপক্ষ সমর্থনেরও সুযোগ থাকবে না।’ এ জন্য ১/১১ থেকে শিক্ষা নিয়ে পা ফেলার জন্য রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে তার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে রিপন বলেন, ‘এটি সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে কী কারণে তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো তা জনগণের কাছে স্পষ্ট করা উচিত।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান, আবদুস সালাম আজাদ, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।