মেইন ম্যেনু

খিজির খান কিলিং মিশনে জেএমবির সঙ্গে ছিল ডাকাতও

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহম্মদ খিজির খান হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া আটজনের মধ্যে দুইজন ডাকাতদলের সদস্যও ছিল। বাকিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য। প্রধান আসামি তারিকুল ইসলাম তারিক ওরফে মিঠু আগে কারাগারে থাকাকালীন পরিচয় হয় ওই ডাকাতদের সঙ্গে। পরে তাদের সহায়তা নিয়েই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। নিহত খিজির খানের বাসা থেকে টাকা, স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে তারা। আর ওই লুণ্ঠিত মালপত্র নিয়ে ডাকাত ও জেএমবি সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

খিজির খান হত্যা মামলায় একে একে পাঁচ আসামি গ্রেপ্তারের পর এমন তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা।

সংশিষ্টরা জানান, গত ৫ অক্টোবর রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় খিজির খানের বাড়িতে রহমতিয়া খানকা শরিফের ওজুখানায় তাকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় বাড্ডা থানায় দায়েরকৃত মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। ১৪ অক্টোবর জেএমবির সংগঠক মিঠু ও খুনিদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া মাইক্রোবাসের চালক আলেক বেপারীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। দুই দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ২৫ অক্টোবর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন মিঠু। এরপর রাজধানীর যাত্রবাড়ী এলাকা থেকে সামছুদ্দিন ও উত্তরা থেকে বাবু নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ গত ২৭ অক্টোবর সাভার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোস্তফা আহমেদ রাসেল নামে আরেক আসামিকে। আদালতের নির্দেশে রাসেলকে দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে তদন্তকারীরা।

মামলার তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি­উত্তর) মাহফুজুল ইসলাম জানান, মিঠু তার জবানবন্দীতে হত্যায় অংশ নেয়া কয়েকজনের নাম জানায়। অভিযানে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। আসামি বাবু ও শামসুদ্দিনকে আদালতের নির্দেশে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এখন তারা জেলহাজতে।

গত ২৮ অক্টোবর আদালতের নির্দেশে রাসেলকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। গত ২ নভেম্বর (সোমবার) আবারও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এডিসি মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘বাবু ও রাসেল ডাকাতদলের সদস্য। মিঠুর পরিকল্পনায় তারা হত্যা ও লুটপাটে অংশ নেয়। বাকিরা জেএমবি সদস্য। আমরা অপর তিনজনর নামও জেনেছি। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন তারা পেশাদার ডাকাতদের জেএমবির সদস্য বানাচ্ছে, নাকি শুধু ডাকাতি করার জন্যই ডাকাতদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

তদন্ত সংশিষ্ট সূত্র জানায়, তরিকুল ইসলাম মিঠু নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) অন্যতম সংগঠক। ২০০৫ সালে দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার মামলায় সে পাঁচ বছর কারাভোগের পর ২০১০ সালে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে মুক্তি পায়। এরপর গত দুই বছর ধরে সে জেএমবির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করে মাজার ও ভিন্ন মতাদর্শের তরিকার পীরদের হত্যার টার্গেট করে। কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের বেশ কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে মিঠুর পরিচয় হয়। এরপর সখ্য গড়ে ওঠে। তারা জামিন পাওয়ার পর একসঙ্গে যে কোনো ডাকাতিতে অংশ নিতে সম্মত হয়। খিজির খানকে হত্যার আগে মিঠু জেলবন্ধু ডাকাতদের সঙ্গে খিজির খানের বাসা কয়েক দফা রেকি করেছিল।

সূত্রমতে, খিজির খানকে হত্যার পর তার বাসা থেকে দু’টি ল্যাপটপ, দু’টি ডিজিটাল স্টিল ক্যামেরা, কিছু টাকা, ৬০ ভরি স্বর্ণালংকার ছাড়াও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করা হয়। ডাকাতদের সঙ্গে মিঠুর চুক্তি হয়েছিল ডাকাতি করা মালামাল সমবণ্টন করা হবে। কিন্তু সমবণ্টন না করে মিঠু একাই বেশিরভাগ মালামাল নিয়ে যায়। এতে ডাকাতদের সঙ্গে তার এবং জেএমবির অপর সদস্যদের দ্বন্দের সূত্রপাত হয়। তদন্ত সংশিষ্টরা জানান, বিরোধ থাকায় আসামি জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার পূর্বাপর অনেক বিষয়ই প্রকাশ করে দিয়েছে। জেএববির সদস্যদের মধ্যে গাফ্ফার ও মাহফুজ নামে দুই সন্দেহভাজনের নামও জানা গেছে। রাসেল জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় জড়িত থাকার দায় স্বীকার করেছে। সে আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।