মেইন ম্যেনু

খুনের আট মাস পর বেরোল রহস্য: পরীক্ষার টাকা না পেয়ে বাবাকে হত্যা

পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা না পেয়ে হবিবর রহমান ধলুকে হত্যা করেছে তাঁর কলেজ পড়ুয়া ছেলে আবু হাসান। আত্মহত্যা বলে প্রচার করা এ ঘটনার রহস্য বেরিয়ে আসে আট মাস পর। গতকাল রবিবার বিকেলে নিহতের ছেলে হাসান বাবাকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১০ জুন সন্ধ্যায় দুপচাঁচিয়া উপজেলার আটগ্রাম শাহপাড়ায় নিজ বাড়ির শয়নকক্ষের দরজা ভেঙে হবিবর রহমান ধলুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বগুড়া জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান জানান, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারকৃত নিহত হবিবর রহমান ধলুর ছেলে হাসান তাঁর জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন যে তাঁর বাবা ছিলেন হাড়কিপটে প্রকৃতির মানুষ। তাঁর সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সংসারে টাকা-পয়সা খরচ করতেন না। এমনকি তাঁকেও লেখাপড়ার কোনো খরচ দিতেন না। হাসান নিজ উদ্যোগে টাকা সংগ্রহ করে এইচএসসি পাস করে বগুড়া সরকারি আযিযুল হক কলেজে বিএসসিতে ভর্তি হন।

গত বছরের ১০ জুন বিএসসি প্রথম বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের শেষ তারিখ ছিল। ওই দিন সকাল ৭টায় আবু হাসান পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য বাবার কাছে দুই হাজার ৫০০ টাকা চান। বাবা হবিবর রহমান ধলু ছেলে আবু হাসানকে মাত্র ৫০ টাকা দিয়ে কৃষিকাজের জন্য মাঠে চলে যান। আবু হাসান বাবার ড্রয়ার খুলে দুই হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে কলেজে ফরম পূরণ করতে চলে যান। সকাল ৯টার দিকে হবিবর রহমান মাঠ থেকে বাড়ি এসে ড্রয়ার খুলে টাকা না পেয়ে স্ত্রী ও বেড়াতে আসা বিবাহিত মেয়েকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর স্ত্রী তাঁর মেয়েকে নিয়ে পাশের গ্রামে বাবার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। দুপুর ২টার দিকে আবু হাসান বাড়ি ফিরে কাউকে না পেয়ে এবং ঘরের দরজা বন্ধ দেখে নানার বাড়িতে গিয়ে মা-বোনের কাছে ঘটনা শোনেন। এরপর সবার অগোচরে হাসান বাড়ি ফিরে এসে মইয়ের সাহায্য নিয়ে ফাঁকা জায়গা দিয়ে বাবার শয়নঘরে ঢুকে ঘুমন্ত বাবাকে হাঁসুয়া দিয়ে গলা কেটে চলে আসেন।

এদিকে দীর্ঘ সময় হবিবর রহমান ঘর থেকে বের না হওয়ায় এবং কোন সাড়া-শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ওই দিন সন্ধ্যায় ঘরের দরজা ভেঙে নিহতের লাশ ও বিছানার ওপর থেকে হাঁসুয়া উদ্ধার করে। ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় এবং ওপরের ফাঁকা অংশে মাকড়সার জাল থাকায় পুলিশ ও নিহতের পরিবার ধারণা করে, হবিবর রহমান ধলু স্ত্রী-সন্তানের ওপর রাগ করে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ থাকায় পুলিশ রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে। এরপর পুলিশ গতকাল নিহতের স্ত্রী, বিবাহিত দুই মেয়ে ও একমাত্র ছেলেকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে নিহতের ছেলে আবু হাসান তাঁর বাবাকে হত্যার বিষয়ে বিস্তারিত জানান। এরপর বিকেলে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন কলেজ ছাত্র আবু হাসান।

এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা বগুড়ার শিবগঞ্জে বেলাল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে গতকাল রবিবার বিকেলে উপজেলার জামুরহাট দর্জিপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৪৭ শতক জমি নিয়ে বেলাল হোসেনের সঙ্গে প্রতিবেশী আজাহার আলীর দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলে আসছিল। গতকাল বিকেলে বিরোধপূর্ণ জমিতে কাজ করতে গেলে বেলালের ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় তারা বেলালকে পিটিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার ওসি আহসান হাবীব জানান, বেলালের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।