মেইন ম্যেনু

খুলনা ছাড়া অচল যেন বাংলাদেশের ক্রিকেট!

খুলনার কোল ঘেঁষা সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের নাম অনুসারে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে বলা হয় ‘টাইগার বাহিনী’। যে নামের যথার্থ মান রেখেছেন খুলনা বিভাগের দামাল ছেলেরা। ওরা যেন সুন্দরবনের টাইগারের হুঙ্কার শুনে পরিণত হয়েছে এক একজন শিকারীতে। ওদের থাবায় কেউ বাদ যায়নি! ভারত, ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড…।

জাতীয় দলের এগারো ক্রিকেটারের মধ্যে খুলনা বিভাগেরই রয়েছেন পাঁচ কৃতিসন্তান। এছাড়া মহিলা ক্রিকেট দলের নেতৃত্বও দিচ্ছেন খুলনার মেয়ে সালমা খাতুন। তাই অনেকেই বলছেন, খুলনা ছাড়া মনে হয় যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটই অচল।

টাইগার সেনাপতি লড়াকু ফাইটার খুলনা বিভাগীয় জেলা নড়াইলের মাশরাফি বিন মর্তুজা, বিশ্বসেরা অল রাউন্ডার মাগুরার সাকিব আল হাসান, সাতক্ষীরার সৌম্য সরকার ও মোস্তাফিজুর রাহমান এবং বাগেরহাটের রুবেল হোসেন। খুলনার এসব ক্রিকেটারদের নাম এখন বিশ্বময়।

শুধু কি বর্তমান জাতীয় দলে খুলনার এ আধিপত্য? না, অতীতেও এ মাটির সন্তানরা দাপটের সাথে জাতীয় দলে কৃতিত্বের সাক্ষী রেখে গেছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে আসার পেছনে যে অধিনায়কের সবচেয়ে অগ্রনি ভুমিকা, যার অধীনে ২০০৭ বিশ্বকাপে চমৎকার নৈপন্যু দেখিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের নজর কেড়েছিলো বাংলাদেশ, তখনকার অধিনায়ক এবং বর্তমান জাতীয় নির্বাচক কমিটির সদস্য হাবিবুল বাশার সুমন। তার বাড়ীও খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া জেলায়।

বর্তমান দলের নিয়মিত সদস্য না হলেও এনামুল হক বিজয় (কুষ্টিয়া), আবদুর রাজ্জাক (বাগেরহাট) এবং টেস্ট দলের নিয়মিত ওপেনার ইমরুল কায়েস (মেহেরপুর) খুলনার কৃতি সন্তান।

খুলনার কৃতি অন্যান্য খেলোয়াররা হলেন- আল আমিন হোসেন (ঝিনাইদহ), সৈয়দ রাসেল (যশোর), ডলার মাহমুদ (নড়াইল), মিথুন আলি (কুষ্টিয়া), ছগির হোসেন পাভেল (খুলনা), রবিউল ইসলাম (সাতক্ষীরা), তুষার ইমরান (যশোর), জিয়াউর রহমান (খুলনা), প্রয়াত মানজারুল ইসলাম রানা (খুলনা), প্রয়াত সালাউদ্দিন আহমেদ (খুলনা) এবং প্রমিলা ক্রিকেটার সালমা খাতুন (অধিনায়ক), শুকতারা (সহ-অধিনায়ক)।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি শেখ সোহেল মঙ্গলবার দুপুরে এ বিষয়ে বলেন, ক্রিকেটে খুলনা বিভাগের ছেলেদের অবদান গর্ব করার মতো। দেশের জন্য ওরা নিজেদের সর্বস্বটুকু দিয়ে লড়ে যান। লাল সবুজের জাতীয় পতাকাকে তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বের কাছে খুলনাকেও পরিচিত করে তুলছেন তারা। ওদের মনোমুগ্ধকর খেলার কারনে আজ খুলনার মানুষ বুক ফুলিয়ে বলতে পারছে ‘ওরা আমাদের সন্তান’।

তিনি জানান, জাতীয় দলে খুলনার খেলোয়াড়ই বেশি। এজন্য খুলনার মাঠে বেশি বেশি খেলা আনার চেষ্টা চলছে। ২০১৬ সালের প্রথম দিকে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলংকা দল খুলনায় খেলতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান বিসিবির এ পরিচালক ।

ক্রীড়া লেখক সমিতির খুলনা জেলা সভাপতি ও যমুনা টিভির খুলনা ব্যুরো প্রধান কনক রহমান বলেন, আঞ্চলিকতার গৌরব সবার মনেই আছে। সে ক্ষেত্রে আমরাও গর্ব করে বলতে পারি, খুলনার সন্তান ছাড়া বাংলার ক্রিকেট যেন অনেকটাই অচল।

খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী শামীম আহমেদ ও ক্ল্যাসিক ক্রিকেট ক্লিনিকের পরিচালক মনোয়ার আলী মুন বলেন, বরাবরই খুলনার ছেলেরা ক্রীড়াঙ্গনে ভালো করছে। যার ধারাবাহিকতায় এখন জাতীয় ক্রিকেট দলে খুলনার ছেলেদের আধিক্য। যারা বিশ্বময় নিজেদের সেরা অবস্থান তৈরি করেছেন।

খুলনার মাঠ বসিয়ে না রেখে বেশি বেশি খেলার আয়োজনের দাবিও করেছেন তারা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান বলেন, ক্রিকেটে খুলনা বিভাগের সম্তানরা দাপটের সাথে খেলছেন। অর্জন করছেন বিশ্ব রেকর্ড। দিচ্ছেন নেতৃত্বও। যার প্রমাণ জাতীয় দল ও মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়করা খুলনার সন্তান। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে বেশি বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের দাবিও জানান এ শিক্ষার্থী।