মেইন ম্যেনু

খেলনা হতে পারে শিশুর ঘাতক

খেলার ছলে সময় পার। এ সুযোগে হাতের কাজটা সেরে নিতে দেরি হয় না মায়েদের। বাচ্চাও থাকে নতুন খেলনায় মগ্ন। ভোঁ.. করে ছুটে চলছে সখের লাল গাড়িটি। কখনো ঝিক-ঝিক আওয়াজ তুলছে রেলগাড়ি। হাসতে হাসতে ডিম পেড়ে দিচ্ছে মোরগ। মজার মাত্রা বাড়াতে বাদ যায় না খেলনা বাদ্যযন্ত্রও। হাজারও সব খেলনা পেলে বাচ্চারা কেনই বা মজা পাবে না বলুন? সোনামনিদের দারুণ উপভোগের এসব খেলনা তাই নির্দ্বিধায় কিনেও দিচ্ছেন মা-বাবা।

কিন্তু সোনামনির এই আনন্দই হতে পারে তার গোপন ঘাতক! সামান্য সচেতনতার অভাবে আমরা একই ভুল করে চলেছি দিনের পর দিন। বাচ্চার চাহিদাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে তুলে দিচ্ছি নানা ধরনের খেলনা। অথচ বাংলাদেশের বাজারে শিশুদের বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বা মেটালের খেলনায় রয়েছে উচ্চমাত্রার ক্ষতিকর রাসায়নিক কেমিক্যাল। যা বাচ্চার অত্যাবশ্যক অঙ্গ প্রভাবিত, ক্যানসার, কিডনি সংক্রমণ, ফুসফুসের ক্ষতি, হার্টের রোগ, শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধাসহ নানা রোগ সৃষ্টি করতে পারে।

সম্প্রতি বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) এক গবেষণায় এমন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ খেলনায় অধিক পরিমাণ সিসা, ব্রোমিন, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম রয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, খেলনাগুলোতে সিসা ৮৩০৫.৮ পিপিএম, ব্রোমিন ৩৯২৩ পিপিএম, ক্যাডমিয়াম ৪৯০.৫ পিপিএম, ক্রোমিয়াম ২৫০২.২ পিপিএম। যা ইউরোপীয় মাত্রার চেয়ে কয়েক হাজার গুণ বেশি। যেখানে ইউরোপীয় নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপদ মাত্রা হচ্ছে সিসা ৬৫.৫ পিপিএম, ব্রোমিন ৭৫ পিপিএম, ক্যাডমিয়াম ২০ পিপিএম, ক্রোমিয়াম ২৭.৫ পিপিএম।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে এ সংক্রান্ত আইন ও সচেতনতার অভাবে এসব বিষাক্ত খেলনা অবাধে আমদানি ও বিক্রি করা হচ্ছে। শিশুদের শরীরের অপূরণীয় ক্ষতি করছে এসব খেলনা। শুধু স্থানীয় ব্র্যান্ড নয়, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের কিছু খেলনাতেও পাওয়া গেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সিসা এবং ক্রোমিয়াম।

অনেক সময় খেলার ছলে শিশুটি খেলনা মুখে দেয়। ফলে তার অজান্তেই শরীরের ভেতরে এসব কেমিক্যাল প্রবেশ করে। এই অবধারিত বিপদ থেকে রক্ষা পেতে শুধু দরকার বাবা-মায়ের সচেতনতা।