মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারাল ভারত

আবারও টাইগারদের স্বপ্নভঙ্গ

মাহমুদউল্লাহর আড়াই শ স্ট্রাইক রেটের ঝোড়ো ব্যাটিং, বল হাতে শুরুতেই আল-আমিনের ব্রেক থ্রু এনে দেওয়া- বৃথা গেল সবই। আবারও স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়ল বাংলাদেশ।

২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ রানে হেরে যাওয়া বাংলাদেশ চার বছর পর ভারতের কাছে হারল ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে। বৃষ্টিবিঘ্নিত ফাইনালে ১৫ ওভারে বাংলাদেশের দেওয়া ১২১ রানের লক্ষ্যটা ৮ উইকেট আর ৭ বল হাতে রেখেই টপকে গেলে মহেন্দ্র সিং ধোনি দল।

১২১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা ভারতের ইনিংসের শুরুতেই আঘাত হানেন আল-আমিন হোসেন। বাংলাদেশি পেসারের তৃতীয় বলেই স্লিপে সৌম্য সরকারকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান রোহিত শর্মা (১)। কিন্তু পর পরের গল্পটা যে শুধুই ভারতের। আরো স্পষ্ট করে বললে, শিখর ধাওয়ান ও বিরাট কোহলির।

দ্বিতীয় উইকেটে ৯৪ রানের বড় এক জুটি গড়েই ম্যাচটা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেলেন এই দুজন। জয় থেকে ২২ রান দূরে থাকতে ধাওয়ানকে (৬০) ফিরিয়ে কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। কিন্তু পরের ওভারে আল-আমিনকে বিশাল দুটি ছক্কার সঙ্গে একটি চার মেরে ভারতকে সহজেই জয় এনে দিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ভারত অধিনায়ক মাত্র ৬ বলে করলেন অপরাজিত ২০ রান। ৪১ রানে অপরাজিত ছিলেন কোহলি।

এর আগে মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেটে ১২০ রানের লড়াইয়ের পুঁজি গড়েছিল বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন সৌম্য সরকার ও তামিম ইকবাল। অশিষ নেহরার করা ইনিংসের চতুর্থ ওভারের টানা দুই বলে দুটি চার মেরে পরের বলে ফিরে যান সৌম্য (৯ বলে ১৪)। উদ্বোধনী জুটিতে ৪ ওভারে আসে ২৭ রান। তবে সৌম্যের বিদায়ের পরের ওভারে তামিমও (১৭ বলে ১৩) ফিরে যান।

তৃতীয় উইকেটে সাব্বির রহমানের সঙ্গে ৩৪ রানের জুটি গড়ে ফেরেন সাকিব আল হাসান (১৬ বলে ২১)। এরপর মুশফিকুর রহিম (৪) ও মাশরাফি (০) দ্রুত ফিরে গেলেও সাব্বিরের সঙ্গে মাত্র ২০ বলে অবিচ্ছিন্ন ৪৫ রানের ঝড়ো জুটি গড়ে বাংলাদেশকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন মাহমুদউল্লাহ।

শেষ তিন ওভারেই ৪২ রান তোলে এই জুটি। ১৪তম ওভারে পান্ডিয়াকে দুবার উড়িয়ে সীমানার বাইরে আছড়ে ফেলেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৩ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় অপরাজিত ৩৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। আর সাব্বির ২৯ বলে ২ চারে ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

রোববার দুপুর থেকেই মিরপুরের আকাশ ছিল মেঘলা। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় হঠাৎ মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি শুরুর পরই মাঠকর্মীরা দ্রুত মিরপুরের সবুজ উইকেট ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেন। ১৫ মিনিট ত্রিপল দেওয়া ছিল। এর পরই সেগুলো উঠিয়ে নিতে শুরু করেন মাঠকর্মীরা।

কিন্তু খানিক বাদেই ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। স্টেডিয়ামের বিদ্যুৎও চলে যায়, ফ্লাডলাইটগুলো হয়ে যায় বন্ধ। সন্ধ্যা পৌনে সাতটার কিছু আগে ফ্লাডলাইটের আলোতে আবার আলোকিত হয়ে যায় স্টেডিয়াম। সাতটা ৪০ মিনিটে বৃষ্টিও থেমে গেলে মাঠকর্মীরা মাঠ পরিচর্যার কাজে নেমে পড়েন। এরপর আম্পায়াররা মাঠ পর্যবেক্ষণ করে সাড়ে ৯টায় খেলা শুরুর সিদ্ধান্ত নেন। খেলার সিদ্ধান্ত হয় প্রতি ইনিংস ১৫ ওভারের।