মেইন ম্যেনু

খোদ কারা কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় কারাগারে ২ হাজার বার ধর্ষণ!

অপরাধীরও মানবাধিকার আছে। আধুনিক বিশ্বে তা আন্তর্জাতিকভাবেই স্বীকৃত। তবে সভ্য দেশ বলে দাবিদার অস্ট্রেলিয়ায় সেই অধিকারটুকু পাননি দেশটিরই এক নাগরিক। খোদ কারা কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় তাকে ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে। তাও একবার কিংবা দু’বার নয়, ২ হাজার বার!

ঘটনাস্থল অস্ট্রেলিয়া আর সময় নব্বই দশকের মাঝামাঝি। গাড়ি চুরির দায়ে কারাগারে যেতে হয়েছিল মেরি (আসল নাম পরিবর্তিত) নামের এক ট্রান্সজেন্ডার নারীকে। শাস্তি শোনার পর কারাকর্তৃপক্ষকে বার বার অনুরোধ করেছিলেন তাকে যেন পুরুষদের সঙ্গে এক সেলে রাখা না হয়। তার কথায় কান দেননি কুইন্সল্যান্ড কারা কর্তৃপক্ষ। তার ঠাঁই হয়েছিল পুরুষদের সেলেই।

সেলে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই মেরির পুরুষ সহবন্দিরা জোর করে তার পোশাক খুলে দেয়। শুরু হয় যৌন নির্যাতন।প্রতি দিন অন্তত একবার করে ধর্ষিত হতে হয়েছে তাঁকে। প্রতিদিনের অমানসিক এই অত্যাচারে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। বার বার জেল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়ে লাভ হয়নি। রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থেকেছেন। কেউই ফিরেও তাকায়নি। তার অসহায় চিৎকার বা অস্ফুট গোঙানি-কোনো কিছুই কারও কানে পৌঁছায়নি। টানা চার বছর চলেছে এই নারকীয় নির্যাতন। অন্তত ২০০০ বার ধর্ষণ করা হয় তাকে।

কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এক দশক সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনও সেই ভয়ঙ্কর দিনগুলোর কথা মনে পড়লে অজানা আতঙ্কে শিউরে ওঠেন মেরি। সম্প্রতি নিজের সেই অসহনীয় অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলেছেন অস্ট্রেলিয়ার এই বাসিন্দা।

মেরি বলেন, ‘ আমি জানতাম আমাকে টিকে থাকার জন্য এ নির্যাতন সহ্য করতে হবে। তবে এ টিকে থাকা ছিলো অন্য বন্দীদের বিনোদনের জন্য। এটা ছিলো দুনিয়ার বুকে জাহান্নাম দেখা।’

জেলে চার বছরে নরক যন্ত্রণার সময় মেরি মাত্র একজন সমব্যথীকে খুঁজে পেয়ে ছিলেন। ঘটনাচক্রে তিনিও ট্রান্সজেন্ডার ছিলেন। মেরির ওপর যে ধরনের নির্যাতন চলতো, সেই একই নির্যাতনের শিকার ছিলেন তিনিও। মেরির মুক্তির কিছু দিন আগে প্যারোলে মুক্তি পান তিনি। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে প্যারোলের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ দায়ের করা হয়। ফের কারাবাসের শাস্তি শোনানো হয় তাঁকে। তবে মেরির বন্ধুকে আর জেলে ফিরে যেতে হয়নি। জেলে যাওয়ার কথা শুনেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি!