মেইন ম্যেনু

খ্রিস্টানদের ২ দিনব্যাপী তীর্থোৎসব শেষ

জীবন্ত ক্রুশের পথে এবং মহাখ্রিস্টজাগের মধ্য দিয়ে ৩০ অক্টোবর শুক্রবার সকালে শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকার বারোমারি খ্রিস্টান মিশনে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশের ক্যাথলিক খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের তীর্থ উৎসব শেষ হয়েছে।

এ তীর্থোৎসবে দেশের বিভিন্ন জেলা এবং ভারতসহ বিভিন্ন দেশের খ্রিস্টভক্ত প্রায় ৪০ হাজার লোকের সমাগম হয়েছিল। সেইসঙ্গে এ তীর্থৎসবকে ঘিরে শেরপুরের ওই সীমান্ত এলাকায় খ্রিস্টান-মুসলিম ও আদিবাসী-বাঙালি মানুষের মাঝে মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিল।
তীর্থোৎসবের পাশের মাঠে বসেছিল আদিবাসী গারো সম্প্রদায়দের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও তাদের হস্তশিল্পের তৈরি বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী এবং আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন খেলনার জমজমাট মেলা। তবে সে মেলা শুধুমাত্র গারোদের মাঝেই সীমাবদ্ধই ছিল না। মেলায় অসংখ্য বাঙালি মুসলমানদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত চলবে এ মেলা।

২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে ধর্মীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশের ক্যাথলিক খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের দুই দিনব্যাপী তীর্থ উৎসব। এবারের মূল সুর ছিল ‘শান্তি, মিলন ও ভালবাসার উৎস ফাতেমা রাণী মা মারিয়া’। এ মূল থিমকে সামনে রেখে উৎসবে আয়োজন করা হয় পাপ স্বীকার, খ্রিস্টজাগ, আলোর মিছিল বা আলোর শোভাযাত্রা, সাক্রামেন্তের আরাধনা ও নিরাময় অনুষ্ঠান, জীবন্ত ক্রুশের পথে তীর্থযাত্রা, মহাখ্রিস্টযোগ, নিশি জাগরণ, ধর্মীয় আলোচনাসহ নানা অনুষ্ঠানমালা।

উৎসবের প্রথমদিন বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় ৪০ হাজার খ্রিস্টভক্ত নর-নারী ও শিশুরা মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোর শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। আলোর শোভাযাত্রাটি মিশনের প্রায় ৪ কিলোমিটার পাহাড়ি উঁচু-নিচু পথ পেরুনোর সময় আলোকিত হয়ে উঠে গারো পাহাড়ের আকাশ।

শুক্রবার সকাল ৮টায় শুরু হয় জীবন্ত ক্রুশের পথে তীর্থযাত্রা। সবশেষে মহাখ্রিস্টজাগে দেশ তথা বিশ্বের সব মানুষের জন্য মঙ্গল কামনা করে তীর্থোৎসবের আনুষ্ঠনিকতা শেষ করা হয়।

এ উৎসবের আয়োজকরা জানায়, প্রতি বছরই এ তীর্থোৎসবে লোকসমাগম বেড়েই চলছে। এদিকে এ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে জেলা পুলিশ ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

এবার ১৫০ পুলিশ, ৩৬ জন র‌্যাব, দুই প্লাটুন আনসার ব্যাটেলিয়ান, এক প্লাটুন বিজিবি, ৫টি ভিডিও ক্যামেরা, একজন করে সার্বক্ষণিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ ছিল। এছাড়া প্রচুর সংখ্যক সাদা পোশাকে নিরাপত্তাকর্মীরা কাজ করেন।

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর বারোমারি খ্রিস্টান ধর্মপল্লিতে ১৯৯৭ সালে পর্তুগালের ফাতেমা নগরের আদলে ও অনুকরণে এ তীর্থস্থল স্থাপন করা হয়। এর পর থেকেই প্রতিবছর এখানে তীর্থ উৎসব পালিত হয়ে আসছে এবং দিনদিন লোকসমাগম বা ভক্তদের ভিড় বাড়ছে।

ময়মনসিংহ ধর্ম প্রদেশের নিয়ন্ত্রণে ১৪টি ধর্মপল্লির মধ্যে শেরপুর জেলায় রয়েছে ২টি। এরমধ্যে আছে জেলার ঝিনাইগাতির মরিয়মনগরে ও নালিতাবাড়ি উপজেলার এই বারোমারি ধর্মপল্লি । এ দুটির মধ্যে মরিয়মনগরে ৫ হাজার এবং বারোমারিতে প্রায় ৩ হাজারসহ সর্বমোট ৮ হাজারেরও বেশি রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টান আদিবাসী রয়েছে বলে বারোমারি মিশন সূত্রে জানা যায়।