মেইন ম্যেনু

গজনী অবকাশের সৌর্ন্দয্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে দ্রুত এগিয়ে চলছে লেক খননসহ নির্মাণ কাজ

মুহাম্মদ আবু হেলাল, ঝিনাইগাতী : শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌর্ন্দর্যের লীলাভূমি জেলার অন্যতম অহংকার “গজনী অবকাশ”কে ভ্রমণ পিপাসুদের আর্কষনীয় ও সৌর্ন্দয্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে দ্রুত এগিয়ে চলছে লেক খনন সহ অন্যান্য নির্মাণ কাজ। জানা যায়, ২০১৩সালে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের তোড়ে গজনী অবকাশের অন্যতম আকর্ষণ লেকটি মূহুর্তের মধ্যে ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যায়। উজান থেকে নেমে আসা বালি ও নুড়ি পাথরে লেকটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় সমতলে পরিণত হয়। এতে গজনীর প্রধান আকর্ষণ লেইকটি ধূ-ধূ বালুচরে পরিনত হওয়ায় গজনীতে আসা পর্যটকদের আকর্ষণ কমতে থাকে। ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় গত ২বছর এই পর্যটনে ভ্রমণ পিপাসুদের তেমন ভীড় লক্ষ্য করা যাইনি। গজনী কর্তৃপক্ষের হিসাব মতে, প্রতি বছর এই গজনীতে গড়ে প্রায় ৫/৬লক্ষ পর্যটকের আগমন ঘটে। এই পর্যটকদের কেন্দ্র করে সেখানে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, শীতের মৌসুমে শতাধিক ফেরিওয়ালা এই গজনীতে ব্যবসা করে তাদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। আশপাশের গ্রামের ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা পর্যটকদের কাছে পানি বিক্রি করে বাড়তি পয়সা আয় করে। এছাড়া শতাধিক হত-দরিদ্র মহিলা ভ্রমনে আসা পর্যটকদের রান্না বান্নার কাজে সহায়তা ও পানি সরবরাহ করে দৈনিক ৩-৪শত টাকা রোজগার করে থাকে। এভাবে পুরো শীত মৌসুমে গজনী অবকাশ ও তার আশপাশের এলাকায় বাড়তি আয়ের মৌসুম হিসেবে পরিগনিত হয়। গত ২০১৩ সালে একদিকে পাহাড়ী ঢলে লেকটি ভেঙ্গে গজনীর সৌর্ন্দয্য নষ্ট হয়, অন্যদিকে ভ্রমনে আসা পর্যটকরা প্রতিনিয়ত ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ায় দিনদিন পর্যটকের সংখ্যা কমতে থাকে। যে কারনে গত ২বছরে গজনীর ব্যবসায়ীদের অনেকটা লোকশান গুনতে হয়েছে। সরকারও লাখ লাখ টাকার রাজস্ব্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ অবস্থায় শেরপুরের জেলা প্রশাসক ডাঃ আব্দুর রহিমের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সেলিম রেজা গজনী অবকাশকে আর্কষনীয় ও প্রাণবন্ত করতে এবং ভ্রমণ পিপাসুদের বাড়তি খোরাক যোগাতে বেশ কিছু উদ্দ্যোগ গ্রহন করেছেন । ইতিমধ্যে স্থানীয় আইন শৃংক্ষলা বাহিনী দ্বারা ছিনতাইকারী চক্রকে নিমূল করা হয়েছে। বর্তমানে ভেঙ্গে যাওয়া লেকটি কেটে পরিমান মত গভীর করা, লেকের ভিতর দিয়ে ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করা, লেকের মধ্যে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরী করা এবং গজনী পর্যটন কেন্দ্রে থাকা অন্যন্য সৌন্দর্য মন্ডিত স্থাপনাগুলোকে আধুনিকায়ন করা। গজনী কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, আগামী ২/৩মাসের মধ্যে এসব কাজ সমাপ্ত হলে বিগত সময়ের চেয়ে গজনীর দৃশ্যপট আরোও আর্কষনীয় হবে। এ ব্যাপারে গজনী ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি আব্দুর রহিম এ প্রতিনিধিকে জানান, “জেলা প্রশাসক ডাঃ আব্দুর রহিমের পরামর্শক্রমে সুযোগ্য ইউএনও সেলিম রেজা গজনীর পর্যটন কেন্দ্রের জন্য যা করছেন, তাতে সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির সাথে সাথে পর্যটকদের সমাগমও বেশী হবে, আর লোক সমাগম বাড়লে সরকারের রাজস্ব্য যেমন বাড়বে, তেমনী আমাদের মতো সাধারণ ব্যবসায়ীদেরও লাভবান হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে”। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সেলিম রেজা প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর, নয়না বিরাম প্রকৃতিতে সমৃদ্ধ গজনী অবকাশে উপভোগ করতে সারা দেশের ভ্রমন পিপাসুদের আহ্বান জানান।