মেইন ম্যেনু

গণগ্রেফতার বন্ধ করুন : এইচআরডব্লিউ

চট্টগ্রামে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের পর দেশব্যাপী শুরু হওয়া পুলিশে সাঁড়াশি অভিযানে ১০ হাজারের বেশি গ্রেফতারের পর, গণগ্রেফতার বন্ধের জন্য বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

বৃহস্পতিবার সংগঠনটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।

গণগ্রেফতার বন্ধের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সংগঠনটি বলছে, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, অপরাধে জড়িত থাকার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে হয় তাদের অবিলম্বে বিচারকের সামনে নিতে হবে নয় তাদের ছেড়ে দিতে হবে।

বছর দুয়েক হলো বাংলাদেশে যে টার্গেট কিলিং চলছে আইনের আওতায় থেকেই এর সঙ্গে জড়িতদের বিচারের কথাও বলা হয়েছে বিবৃতিতে।

২০১৩ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে বেশকজন সমমনা ব্লগার, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতাবলম্বী, প্রকাশক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, বিদেশি, তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার আদায়ে সোচ্চার কর্মী একই কায়দায় হত্যার শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার প্রায় প্রতিটিরই দায় স্বীকারের খবর এসেছে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) বা আনসার আল-ইসলামের নামে। তবে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে থেকে বারবারই বলা হচ্ছে বাংলাদেশে আইএসের কোনো অস্তিত্ব নেই।

সাম্প্রতিক এসব হত্যাকাণ্ডের পর কর্তৃপক্ষ প্রতিক্রিয়ায় মন্থরগতির কথাও বলা হয়েছে বিবৃতিতে।

সাঁড়াশি অভিযানের নামে পুলিশ গণগ্রেফতার করছে- এমন অভিযোগ এনে আগামী শনিবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার এক ইফতার মাহফিলে দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘পত্রিকা খুললেই দেখা যায়, সরকার নিরীহ মানুষকে ধরে পুলিশ ভ্যানে ভরছে। আর তাদের স্বজনরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আহাজারি করছে। কিন্তু তারা কিছুই করতে পারছে না। এই হচ্ছে সরকারের দেশ চালানোর নমুনা।

তবে সাম্প্রতিক এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য উল্টো খালেদা জিয়াকেই কার্যত দায়ী করেছেন সরকারের মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। গতকাল এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, তিনি খালেদা (জিয়া) আজ আমেরিকার ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করছেন। তা ভালো কথা, প্রধানমন্ত্রীও এর নিন্দা করেছেন। কিন্তু তিনি ফ্লোরিডার খুনের প্রতিবাদ করলেন আর বাংলাদেশে এতগুলো খুনের একবারও নিন্দা করলেন না কেন? বরং আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দোষ দিচ্ছেন। এ হলো খালেদার রাজনীতি। এতে প্রমাণ হচ্ছে এতদিন তিনি পরোক্ষভাবে গুপ্তহত্যাকারীদের সমর্থন দিয়ে এখন প্রত্যক্ষভাবে আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছেন।