মেইন ম্যেনু

গণপরিবহনে নতুন নৈরাজ্যে বাস মালিকরাই হচ্ছেন লাভবান

পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের পাতানো ‘ফাঁদ সিটিং সার্ভিস’ সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও আরো কৌশল অবলম্বন করছে তারা। নানা কৌশলে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ফলে যাত্রী হয়রানি বন্ধে সরকার শক্ত অবস্থান নিলেও কোনো সুফলই পাচ্ছেন না যাত্রীরা। মালিকরাই লাভবান হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

রাজধানীর বিভিন্ন রুটে সোমবার সকাল থেকে সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, সিটিং সার্ভিস বন্ধ করা হলেও আগের মতো অতিরিক্ত ভাড়াই নিচ্ছে পরিবহন শ্রমিকরা। বাসে উঠার আগেই যাত্রীদের কাছে জানতে চাইছে কোথায় যাবেন। পরে শর্ত দিচ্ছে ভাড়া কত দিতে হবে। চুক্তি করেই যাত্রীদের বাসে উঠানো হচ্ছে। বাসগুলো যেন সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পরিণত হয়েছে।

দুপুর ১টার দিকে সদরঘাট থেকে মিরপুরগামী বিহঙ্গ পরিবহনের একটি বাস জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থামলে দেখা যায় যাত্রীরা বাসটিতে উঠতে চাইলে ভাড়া আগেই বলে দেওয়া হয়। হেলপারকে বলতে শোনা যায়, ‘যেই উঠুন এখান থেকে শাহবাগ ১০ টাকা ভাড়া।’ তুলনামূলক বাস কম চলাচল করায় যাত্রীরা শর্ত মেনেই বাসে উঠতে বাধ্য হচ্ছেন।

এদিকে ভাড়াসহ নানা অভিযোগে যাত্রীদের সঙ্গে চালক-হেলপারের বাকবিতণ্ডায় রাজধানীতে চলাচলকারী অধিকাংশ বাসেই অস্বস্তিকর এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও অপ্রীতিকর পরিস্থিতর কারণে বাস চলাচল বন্ধ থাকার খবরও পাওয়া গেছে। যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কথা বললেও চালক-হেলপাররা বলছেন, তারাই (যাত্রীরা) চার্ট মানছেন না। আর যাত্রীরা বলছেন, চার্ট অনুযায়ী ভাড়া নেওয়ার কথা থাকলেও পরিবহন শ্রমিকরা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে।

অন্যদিকে চার্ট মেনেই ভাড়া নিতে ও দিতে হবে উল্লেখ করে বিআরটিএ’র যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ শওকত আলী বলেন, ‘চার্টে প্রতি কিলোমিটার মিনি বাসের জন্য ১ দশমিক ৬০ টাকা, বড় বাসের জন্য ১ দশমিক ৭০ টাকা। আবার মিনিবাস সর্বনিম্ম ৫ টাকা ও বড় বাস ৭ টাকা ভাড়া।’ এ নিয়মেই যাত্রীদের ভাড়া দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

ভাড়ার বিষয়টি ছাড়াও যাত্রীদের আরো অভিযোগ, যত্রতত্র গাড়ি থামানো, ধীর গতিতে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত গাদাগাদি ও নারীদের অধিকার ক্ষুণ্নসহ নানা অনিয়ম করছে পরিবহন শ্রমিকরা।

অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, বাসে পকেটমারের সংখ্যা বেশি হয়ে গেছে। নারীদের বাসে উঠানো কষ্টকর হচ্ছে। যেখানে সেখানে বাস থামানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে গেছে।

সিটিং সার্ভিসের নামে অবৈধ সেবা বন্ধ করতে রোববার থেকে রাজধানীতে অভিযানে নেমেছে বিআরটিএ’র পাঁচটি ভিজিলেন্স টিম। পরিবহন মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে গঠিত এ টিম সপ্তাহে তিন থেকে চারদিন রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ অভিযান চালাবে।

গত ৪ এপ্রিল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিটিং সার্ভিস ও গেটলক বন্ধ ঘোষণা করে ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতি। ওইদিন সমিতির পক্ষ থেকে বিআরটিএ নির্ধারিত চার্ট অনুসরণ করে ভাড়া আদায়ের কথা বলা হয়। যা ১৫ এপ্রিল শনিবার থেকে মেনে চলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।