মেইন ম্যেনু

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সফলতার গল্প

ওমর ফারুক সোহান, গণ বিশ্ববিদ্যালয় (সাভার) থেকে: প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ভিন্নধর্মী কার্যক্রম ও কঠোর ব্যবস্থাপনার জন্য পরিচিত সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় । যার অধীনে পরিচালিত হচ্ছে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ডেন্টাল কলেজ ও ফিজিওথেরোপী, ফার্মেসী, মেডিকেল ফিজিক্স, বিবিএ, আইন, বাংলা, ইংরেজি, গণিতের মতো মোট ১৯ টি বিভাগের অনার্স ও ৭ টি বিষয়ের মাস্টার্স কার্যক্রম ।

এমবিবিএস, বিডিএস সহ এই ১৯ টি বিভাগের বছরে প্রায় ১০ ধরনের অনার্স পর্যায়ের পরীক্ষা ও ৭টি বিষয়ের মাস্টার্স পরীক্ষা পরিচালনা করে থাকে গণ বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় । যার মধ্যে এমবিবিএস এর চারটি প্রফ, বিডিএস এর দুইটি, অন্যান্য বিভাগের দুইটি করে সেমিস্টার পরীক্ষা।শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য রয়েছে দুই সেমিস্টারের মাঝে একটি স্পেশাল সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা । যার ফলে শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ড্রপ অনেকাংশেই কমে গেছে ।

সাধারণত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পরে ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কারনে সেমিস্টার পরীক্ষা শেষ করতে লম্বা সময়ের প্রয়োজন হয় । তাই গণ বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষার পূর্বেই এখন ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে । প্রতিটি সেমিস্টার পরীক্ষার পূর্বে এক সপ্তাহের ‘প্রস্তুতিমূলক ছুটি’ বর্তমানে বাধ্যতামূলক ভাবে দেওয়া হচ্ছে । পরীক্ষার সময় দুটি বিষয়ের মধ্যবর্তী ছুটি শিক্ষার্থীবান্ধব করা হয়েছে ।

সময় মতো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়া ও ফলাফল প্রকাশ না করাই সেশন জটের মূল কারন হিসেবে বিবেচিত । কিন্তু গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে এই দুইটিই অনুপস্থিত । বিশ্ববিদ্যালয় মন্জুরী কমিশন ও বিএমডিসি নিয়ম অনুযায়ী যথাসময়ে সেমিস্টার ও প্রফ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় । চার সপ্তাহের মধ্যে সেমিস্টার পরীক্ষা নেওয়া ও ফলাফল প্রকাশ করা হয় গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে । যেখানে সরকারি মেডিকেল কলেজের প্রফের ফলাফল প্রকাশে তিন থেকে চার মাস সময় লেগে যায় সেখানে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের প্রফ পরীক্ষা শেষ হওয়ার তিন-চার সপ্তাহের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা হয় । যাতে শিক্ষার্থীরা ফলাফল জেনে পরের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারে ।

পাস করার পর উচ্চতর পড়াশোনার জন্য ট্রান্সক্রিপ্ট, প্রফেশনাল সার্টিফিকেট ও মার্কসীট যথাসময়ে পাওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ । তাই মাত্র ৯ জন কর্মকর্তার এই পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের প্রচেষ্টা ও সদিচ্ছার ফলে তিন-চার মাসের এই সুদীর্ঘ সিস্টেম এখন ১৫ দিনে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে ।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর মুর্ত্তজা আলী বাবু মনে করেন, সততার শুরু হওয়া উচিৎ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকেই । শিক্ষার্থীদের সোনালী জীবন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে এই অফিসের দায়িত্ব অনেক বেশি ।আমরাও কোনো এক সময় শিক্ষার্থী ছিলাম, এই কথা আমাদের ভুলা উচিৎ নয় । দায়িত্বশীলদের অবশ্যই শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ নিতে হবে ।

তিনি আরো জানান, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সুবিধার জন্য সকল পরীক্ষার নোটিশ ও ফলাফল ইন্টারনেটে প্রকাশ করা সহ আরো কিছু ডিজিটাল কার্যক্রম অতি দ্রুত যুক্ত হবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে । ইতিমধ্যে প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা ফাইল তৈরি করে, তাদের সম্পূর্ণ কোর্সের ফলাফল সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । যেন অন্যদের মতো গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফলাফল পরিবর্তন অথবা ভুয়া সার্টিফিকেট’ দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা না ঘটে ।