মেইন ম্যেনু

‘গত ৬ মাসে আইএস ১২% এলাকা হারিয়েছে’

তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিরা ইরাক ও সিরিয়ায় তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকার ১২% হারিয়ে ফেলেছে। প্রতিরক্ষা বিষয়ক একটি গবেষণা সংস্থা আইএইচএস বলছে, এবছরের প্রথম ছ’মাসে জিহাদি গ্রুপটি বিভিন্ন জায়গা থেকে পিছু হটেছে। খবর বিবিসি বাংলার।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই সংস্থাটির হিসেবে, দু’বছর আগে আইএস যতোটুকু এলাকাজুড়ে ‘খেলাফত’ প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করেছিলো তার তুলনায় সেই এলাকা এখন ২৬,০০০ বর্গমাইলেরও বেশি সঙ্কুচিত হয়েছে।

জমি হারিয়ে আইএস এখন মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপে বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্য করে হামলা পরিচালনা করছে।

আইএইচএস আশঙ্কা করছে, এধরনের হামলা আরো বাড়তে পারে।

গত সপ্তাহে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৩০০ জনের মতো নিহত হয়েছে।

ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিদের হাত থেকে বাগদাদের পশ্চিমে ফালুজা শহর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরই রাজধানীতে বড়ো ধরনের এই হামলাটি চালানো হয়।

আইএইচএসের একজন বিশ্লেষক কলাম্ব স্ট্র্যাক বলেছেন, “ইসলামিক স্টেটের এলাকা যেহেতু কমে আসছে সেহেতু এটা পরিষ্কার যে তারা যেভাবে শাসনকাজ চালিয়ে আসছিলো সেটা ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে তারা তাদের অগ্রাধিকারের পরিবর্তন ঘটাচ্ছে।”

“একারণে, আমরা আশঙ্কা করছি বেসামরিক লোকজনের ওপর হামলা আরো বাড়তে পারে, হামলা হতে পারে অর্থনৈতিক স্থাপনাতেও। এসব হামলা হবে ইরাক, সিরিয়া এবং ইউরোপেও।”

আইএইচএস বলছে, ইসলামিক স্টেটের পক্ষ থেকে খেলাফত গঠনের কথা ঘোষণা করার ৬ মাস পর, ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে, ইরাক ও সিরিয়ায় তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকার আয়তন ছিলো ৯০,৮০০ বর্গ কিলোমিটার।

পরে ডিসেম্বর নাগাদ এই এলাকা ১৪% কমে আসে।

এরপর থেকে আইএস আরো ৯,৭০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা হারিয়েছে।

আইএইচএস বলছে, এখন ইসলামিক স্টেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ৬৮,৩০০ বর্গ কিলোমিটার, যা আয়ারল্যান্ড কিম্বা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সমান।

সিরিয়ায় আইএস জঙ্গিরা প্রেসিডেন্ট আসাদের সরকারি বাহিনীর পাশাপাশি রাশিয়া ও ইরানের দিক থেকেও চাপের মুখে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স বা এসডিএফের যোদ্ধারাও তাদের ওপর আক্রমণ শানাচ্ছে।

এই বাহিনী গত ফেব্রুয়ারি মাসে পূর্বাঞ্চলীয় একটি শহর শাদ্দাদি দখল করে নেয়। এটি ছিলো আইএসের গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটি।

পরে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী আইএসের হাত থেকে প্রাচীন একটি শহর পালমায়রাও পুনর্দখল করে নিয়েছে।

ইরাকে সরকারি বাহিনী তাদের মিত্র মিলিশিয়াদের সাথে নিয়ে ইরাকের দক্ষিণের একটি শহর মসুলে আইএসের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।