মেইন ম্যেনু

গভীর অন্ধকারকে আমরা ভয় পাই কেন, জানেন কি!

শিশু বয়সে আমরা সবাই ‘অন্ধকারের ভয়’ মধ্য দিয়েই আমাদের শৈশবকাল কাটিয়েছি বলে ধরা যেতে পারে। অন্ধকার স্থান বা কক্ষে গেলেই মনে হয় এই বুঝি পেছন থেকে কেউ চেপে ধরল। কিংবা কেউ ধাক্কা দিল!

আসলে কিন্তু শুধুই শিশুরাই নয় প্রাপ্তবয়স্ক হিসাবে অনেক বেশি নির্ভীক এবং সচেতন হওয়া সত্ত্বেও প্রতি রাতে অন্ধকারে আমাদের মধ্যে অন্যরকম একটা ভয় কাজ করে।

আমরা সবাই মোটামোটি এই অন্ধকারকে ভয় পাই। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনেও এটা উঠে এসেছে যে, মানুষ সবথেকে বেশি ভয় পায় অন্ধকারকে।

যদিও এটা বিশ্বাস করাটা একটি শিশুসুলভ আচরণের মত শোনাচ্ছে কিন্তু গবেষকদের মতে অন্ধকারে আমাদের ভয় পাওয়াটা একটি বিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্য, যে আমরা রাতে আমাদের গোপনে বাস্তব জীবনের বিষয়গুলো আমাদের মস্তিষ্কে ভিড় করে এবং তখন আমাদের বেঁচে থাকার তাড়নাটা আরও বেড়ে যায়।

গবেষকরা ধারণা করেন যে, অন্ধকারে মানুষের এই সহজাত ভয় মানব ইতিহাসের একটি অংশ হিসেবে ডালপালা ছড়িয়ে আজ অব্দি এসে পৌঁছেছে।

প্রযুক্তির আবির্ভাবের পূর্বে আমাদের পূর্বপুরুষরা সাধারণত রাতেই শিকার করত কারণ অপেক্ষাকৃত ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তি কারণে তখনকার সময়ে দিনে শিকার করা সম্ভব হত না। তাছাড়াও দিনে হিংস্র প্রাণীর আক্রমণের সম্ভাবনা ছিল।

এর মানে হল এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, আমাদের পূর্বপুরুষদের মাঝরাতে নিরাপদ থাকার জন্য অনেক সচেতন থাকতে হতো। তা না হলে তারা মারাও যেত অনেকে। রাতে সব সময় ভয়ে ভয়েই তাদের শিকারের কাজটা করতে হতো।

গবেষণায় জানা গেছে, বর্তমানে প্রযুক্তি যুগে মানুষ চতুর ও ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে চলে আসা রাত্রিকালীন এই ভয়ের ঐতিহ্যটা আমাদের মনে স্থায়ী হয়ে গেছে। তাই এখন রাতের অন্ধকার মানে মানুষের কাছে একটি ভয়ানক অভিজ্ঞতা।