মেইন ম্যেনু

গরুর জন্মদিনে ১০ কেজির কেক

গরু ইস্যুতে ভারতের উত্তপ্ত রাজনীতির মধ্যে এবার শোনা গেল নজিরবিহীন এক সম্প্রীতির গল্প। মিরাটের এক মুসলিম পরিবার তাদের গরু বাচ্চার প্রথম জন্মবার্ষিকী পালন করে সাম্প্রদায়িক সহনশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

উত্তর প্রদেশের মিরাট শহরের হাপুরে সিকান্দার কলোনির এক মুসলিম পরিবার ‘জুলি’ নামে গরুর বাচ্চাটির বয়স এক বছর পূর্তিতে উৎসবমুখর পরিবেশে কেক কেটে সেটির জন্মদিন পালন করে।

জুলির জন্মদিন পালনে কোনো দিক থেকে কমতি রাখা হয়নি। ১০ পাউন্ড ওজনের ডিম ছাড়া কেকের ওর্ডার দেওয়া হয়। জন্মদিনের উপহার হিসেবে জুলির মাথায় পরিয়ে দেওয়া হয় ক্যাপ। বহু অতিথি আসেন। পাকোড়া, ফল ও মিষ্টি দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়।

জুলি ও তার মা ভুলির মনিব মোহাম্মদ ইরশাদ। নয়ডায় একটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কারখানায় কাজ করেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘জুলি ও ভুলি আমাদের কাছে পরিবারের সদস্যের মতোই। পরিবারের শিশুদের যেভাবে যতœ নেই, তাদেরকেও একইভাবে পরিচর্যা করি। আর যখন জুলির জন্মদিন ঘনিয়ে এল, তখন মহা ধুমধামে তা পালনের চিন্তা করি আমরা। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আমরা ১০০ অতিথিকে নিমন্ত্রণ করি।’

ইরশাদ আরো জানান, প্রিয় গরুর বাচ্চা জুলির জন্য তারা ডিমহীন ভ্যানিলা কেকের অর্ডার দেন। একটি গরুর বাচ্চার আদালে তৈরি হয় সেই কেক, যা দেখতেও ভারি সুন্দর। আরো মজার বিষয় হলো- অতিথিরা জুলির জন্য দারুণ সব উপহার নিয়ে আসেন। তরমুজ, কলা, আপেল, ডালিম আরো কতো কি! সব উপহার রঙিন কাগজে মোড়ানো ছিল।

জুলির জন্মদিনে ইরশাদের পরিবার ৪০ হাজার রুপি ব্যয় করে। গরুর প্রতি ভালোবাসার এই নজির অভূতপূর্ব নয় কি?

মিরাটের এই পরিবারটি প্রায় ৪০ বছর ধরে গরু পালন করে আসছে। সব সময় তাদের গোয়ালে গরু থাকে। ২০০৮ সালে ইরাশাদের বাবা হাজি আবদুল গনি গরুর নামকরণ ও জন্মদিন পালনের সিদ্ধান্ত নেন। সেই থেকে ছোট পরিসরে তা হয়ে আসছে। কিন্তু এবার জুলির জন্মদিনে ৪০ হাজার রুপি খরচ করে বিশাল আয়োজন করে ইরশাদ।

গরু নিয়ে ভারতে যখন তুমুল বিতর্ক চলছে, সংঘাত-সংঘর্ষ হচ্ছে, যেখানে এক মুসলিম পরিবারে গরুর জন্মদিন পালন সম্প্রীতির বন্ধন আরো অটুট রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে। শুধু গরু নয়, প্রাণির প্রতি আমাদের ভালোবাসা থাকলে, অনেক সমস্যারই সমাধান করা সম্ভব।

তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইন।