মেইন ম্যেনু

গরুর মাংসের প্রসঙ্গ থাকায় তথ্যচিত্র দেখাতে বাধা ভারতে

গরুর মাংসের প্রসঙ্গ থাকায় একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করতে দিতে রাজি হয় নি ভারত সরকার। দিল্লিতে আয়োজিত তথ্যচিত্র উৎসবে প্রথমে নির্বাচিত হওয়ার পরেও শেষ মুহুর্তে পাঁচজন ছাত্রছাত্রীর তৈরি ওই ছবিটিকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই সিদ্ধান্তের কোনও কারণ দেখানো হয় নি। তবে ছবিটির নির্মাতারা বলছেন গোমাংস নিয়ে ভারতে যে বিতর্ক চলছে, সেজন্যই ছবিটি সম্ভবত বাদ পড়েছে, যদিও এই ছবিটির মূল বিষয়বস্তু কখনই গোমাংস নয় বলে বলছেন ছবিটির নির্মাতারা।

151030111301_caste_on_the_menu_card_624x351_casteonthemenucard

‘কাস্ট অন দা মেনু কার্ড’ নামের ওই তথ্যচিত্রটি দিল্লিতে আয়োজিত মানুষের জীবনযাত্রা কেন্দ্রিক একটি তথ্যচিত্র উৎসবে নির্বাচিত হয়েছিল। কিন্তু উৎসব শুরুর ঠিক আগে ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক যে তালিকা চূড়ান্ত করে পাঠিয়েছে, তাতে ওই একটি তথ্যচিত্রকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

ওই তথ্যচিত্র উৎসবের পরিচালক মনোজ ম্যাথ্যু বলছেন, “আমরা স্বাভাবিকভাবেই বিচলিত আর হতাশ। এই তথ্যচিত্র উৎসবে জীবন-জীবিকার বৃহত্তর ইস্যুগুলি নিয়ে তৈরি করা ছবি দেখানো হয়। এই ছবিটিকে বাদ দেওয়ার কোনও কারণ দেখানো হয় নি, আবার তালিকাতেও নেই। তবে কয়েকজন সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন যে গোরুর মাংস নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, সে কারণেই ছবিটি বাদ পড়েছে।’’

“কিন্তু এধরণের বৃহত্তর ইস্যুগুলো নিয়ে তো চর্চ্চা, সুস্থ বিতর্ক করা প্রয়োজন। কিন্তু তার বদলে গরুর মাংস নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, সবার দৃষ্টি এখন সেদিকেই,’’ মন্তব্য মনোজ ম্যাথ্যুর।

ছবিটির নির্মাতারা বলছেন গরুর মাংস নয়, তাদের ছবিটির মূল বিষয় হল ভারতের গরুর মাংস প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে জাত-পাতের বিষয়টি।

গরুর মাংস নিয়ে যে বিতর্ক এখন চলছে, তারা বলছেন তার অন্তত দেড় বছর আগে তারা ছবিটি বানিয়েছিলেন।

ভারতের খ্যাতনামা সমাজবিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান – টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস–এর যে পাঁচজন ছাত্রছাত্রী কাস্ট অন দা মেনু কার্ড নামের ওই তথ্যচিত্রটি বানিয়েছিলেন, তাদেরই একজন অতুল আনন্দ বলছেন যে পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ গরুর মাংস রপ্তানীকারক দেশ হল ভারত।।

“তথ্যচিত্রটিতে আমরা বলেছি যে পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ গরুর মাংস রপ্তানীকারক দেশ হল ভারত। এই শিল্প যারা নিয়ন্ত্রণ করেন, সকলেই তথাকথিত উচ্চবর্ণের মানুষ, অনেকেই বিজেপির নেতা। কীভাবে তারা গরুর মাংস প্রক্রিয়াকরণ বা চামড়ার ব্যবসা থেকে লাভবান হচ্ছেন – সেগুলো যেমন দেখানে হয়েছে, তেমনই দেখানো হয়েছে কথিত নিম্নবর্ণের মানুষদের এখানে কীভাবে দিনমজুরিতে কাজ করতে হয়। এই সামাজিক ভেদাভেদই ছবিটার মূল বিষয়।“

অতুল আনন্দ আরও বলছিলেন যে এই ছবি তৈরি করার চিন্তাটা তাদের মাথায় আসে ক্যাম্পাসের ক্যান্টিনে গরুর মাংস কেন পাওয়া যায় না, তার খোঁজ করতে গিয়ে।

ভারতের কোনও বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হোস্টেলেই গরু বা শূকরের মাংস দেওয়া হয় না, যদিও অনেক ছাত্রছাত্রীই সেটা খেতে চান। কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত খাদ্যতালিকায় গরুর মাংস রাখা হবে না, ছবিতে সেই প্রশ্ন তুলেছেন অতুল আনন্দ আর তার সহযোগীরা।

গরুর মাংস খাওয়া নিয়ে গত প্রায় একমাস ধরে ভারতে বিতর্ক চলছে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বা বিজেপি-র শীর্ষনেতারা এই প্রসঙ্গে হয় চুপ করে থাকছেন, অথবা কোনও বক্তব্য রেখে বিতর্ক আরও বাড়িয়ে তুলছেন।বিবিসি বাংলা