মেইন ম্যেনু

ফলোআপ

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর থানা চত্বরে আহত মুসার খোঁজ রাখেনি কেউ

গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলার চাঁদ করিম উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণী পড়–য়া মুছা মিয়া (১৪) নামের এক স্কুল ছাত্র সাদুল্যাপুর থানা চত্বরে আহত হওয়ার ঘটনায় ১০ দিন অতিবাহিত হলেও অদ্যবধি খোঁজ রাখেনি কেউ। বর্তমানে হাড়ভাঙ্গা হাতের যন্ত্রণায় বাসগৃহে ছটফট করছে মুসা মিয়া। এদিকে রহস্যজনক কারণে নিরব দর্শকে ভূমিকা পালন করছে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক-কর্মচারীরা।

উল্লেখ্য, উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামের দিনমজুর রশিদুল ইসলামের পুত্র ও চাঁদ করিম উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র মুছা মিয়া গত ১৭ আগষ্ট সাদুল্যাপুর বহুমুখী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলা দেখতে আসে। ওইদিন দুপুরে মুছা মিয়া তার বন্ধুদের সাথে নিয়ে থানা চত্বরের পার্কে ঘুরতে গেলে হাত ভেঙ্গে আহত হয় মুসা মিয়া। কিভাবে হাত ভেঙ্গে গেল মুসা মিয়ার? এ প্রশ্ন এখনো সবার মাঝে বিরাজ করছে। কেউ বলছে পুলিশের পিটুনীতে, আবার কেউ বলছে পা পিচলে পড়ে মুসা মিয়া হাত ভেঙ্গে আহত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মুখ খুলছে না কেউই। ঘটনাটি জজমিয়া নাটকে পরিনত হয়েছে বলে অনেকে ধারণা করছেন।

আহত মুসা মিয়া আবেগ প্লাবুত ভাবে জানায়, আমি উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে বাবা মায়ের মুখে হাসি ফুটাতে চেয়েছিলাম কিন্ত সে স্বপ্ন আমার চুরমার হয়ে যাচ্ছে। গত ১০ দিন যাবত স্কুলে যাওয়া হয়েছে। সুস্থ্য হয়ে আবার স্কুলে যেতে চায় মুসা মিয়া।

সরজমিনে মুছা মিয়ার মা মঞ্জুরী বেগম জানান, আর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা সেবা না নিতে পারায় স্থানীয় কবিরাজ আনিছুর রহমানের নিকট ভাঙ্গা হাতে ব্যন্ডেজ দিয়ে কোনমতে ঝারফুক দেয়া হচ্ছে।

এদিকে মুছা মিয়ার বাবা দিনমজুর রশিদুল ইসলাম কান্না জড়িত কন্ঠে সাংবাদিককে বলেন, আমার ছেলেকে দ্রুত সুস্থ্য করা প্রয়োজন কিন্তু অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা সেবা দিতে না পারার ফলে ভাঙ্গা হাতের যন্ত্রণায় রাত জেগে ছটফট করছে মুসা মিয়া।
তিনি আরও জানান, ছেলেক দ্রুত সুস্থ্য করতে না পারলে আগামী জেএসসি পরীক্ষা হতে বঞ্চিত হতে পারে।