মেইন ম্যেনু

গাইবান্ধায় আরো ৩০ গ্রাম প্লাবিত

ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ঘাঘটের পানি কমলেও গাইবান্ধায় করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ সেন্টিমিটার কমে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালী পয়েন্টে করতোয়ার পানি বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের দূর্গাপুর ও বালুয়ায় করতোয়া এবং বাঙ্গালী নদীর পানির প্রবল চাপে নতুন করে আরো অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের দরবস্ত ইউনিয়নের ছোট দূর্গাপুরে করতোয়ার তীরে স্থানীয়ভাবে নির্মিত বাধটি ভেঙে দরবস্ত ও তালুক কানুপুর ইউনিয়নে পানি ঢুকে পড়ে।

অন্যদিকে গোবিন্দগঞ্জের বালুয়া বাঙ্গালী নদীর পানির স্রোতে ভেসে যায় নুরুলের বাধ। এতে মহিমাগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়।

ওইসব এলাকার বাড়ি-ঘরে পানি ঢোকার পাশাপাশি মাছের ঘের, আমন ফসল, শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৩৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোবিন্দগঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম।

করাতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গোবিন্দগঞ্জের পৌর এলাকার চক গোবিন্দ, খলসির চাঁদপুর, সাহাপাড়া, খলসি, আরজি খলসি, কাইয়াগঞ্জ, কুটিবাড়ি, বোয়ালিয়া, কালিকাডোবা, তরফমনু, রহিমাপুর, তালুকসহ মহিমাগঞ্জ, দরবস্ত, তালুককানুপুর, ফুলবাড়ি, শালমারা, রাখালবুরুজ, হরিরামপুর ও সাপমারা ইউনিয়নের ব্যাপক এলাকা এখন বন্যা কবলিত।

এদিকে বন্যার পানির তোড়ে মহিমাগঞ্জের বোচাদহ গ্রাম সংলগ্ন বালুয়ায় নুরুলের বাধ ভেঙে যাওয়ায় শিবপুর কোচাশহর ও মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের ব্যাপক এলাকা নতুন করে পানিতে প্লাবিত হয়েছে এবং বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। এছাড়া গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও সাব রেজিস্ট্রার অফিস চত্বর, মহিলা কলেজ এবং উপজেলা পরিষদ ভবন সংলগ্ন কুটিবাড়িও এখন বন্যার পানিতে নিমজ্জিত।

গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর মহাসড়কে তরফমনু এলাকায় করতোয়ার পানি যেকোন মুহূর্তে ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন রাস্তায় বালির বস্তা ফেলে পানি উঠা বন্ধ করার চেষ্টা এখনও অব্যাহত রেখেছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, জেলার ছয় উপজেলা বন্যা কবলিত হওয়ায় তিন হাজার ৫৪৯ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউশ ও আমন ধান এবং সবজিখেত নষ্ট হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার ছয়টি উপজেলার ৪৮টি ইউনিয়নের ২১৩ গ্রামের এক লাখ ৩৫ হাজার ১০২ জন মানুষ এখন পানিবন্দি।