মেইন ম্যেনু

গাজীপুর অভিযানে নিহত অাকাশের পরিবারও জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত

গাজীপুরের পাতারটেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত নিউ জেএমবির সামরিক কমান্ডর আকাশের প্ররোচণাতেই তার দুই বোন ও মাসহ প্রতিবেশীরা জেএমবি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তার পুরো পরিবার এখন জেএমবির সঙ্গে যুক্ত।

ফরিদুল ইসলাম আকাশ সিরাজগঞ্জের জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতা ও আদালতের চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামি। তিনি ‘নিউ জেএমবি’র ঢাকা বিভাগের অপারেশন কমান্ডার ছিলেন। তার নামে সিরাজগঞ্জের উল­াপাড়ায় গত বছরের অক্টোবর মাসে সন্ত্রাস দমন ও জঙ্গি কর্মকাণ্ডের মামলায় চার্জশিট দেয়া হয়।

গত ৫ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার গান্ধাইল ইউনিয়নের পশ্চিম বরইতলী গ্রাম থেকে আকাশের মা ও দুই বোনসহ প্রতিবেশী আরো এক নারীকে আত্মঘাতি জেএমবির সদস্য হিসেবে আটক করে সিরাজগঞ্জের গোয়েন্দা পুলিশ। এ মামলায়ও আকাশ পলাতক ছিলেন।

আটকরা হলেন, আকাশের মা ফুলেরা খাতুন (৪৫), দুই বোন সাকিলা খাতুন (১৮) ও সালমা খাতুন (১৬) এবং একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রাজিয়া বেগম (৩৫)। এসময় তাদের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই ও একটি কম্পিউটার উদ্ধার করা হয়। আকাশের অপর দুই ভাইবোন ৮ ও ৯ বছর বয়সী। বাবা আবু সাঈদ পলাতক রয়েছেন।

তাদের আটকের পর থেকে ওই গ্রামের আরো পাঁচ নারী জেএমবির সদস্য নিখোঁজ রয়েছে। এরা হলেন, বড়ইতলা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী জরিনা খাতুন, মেয়ে আসিয়া খাতুন, মরিয়ম খাতুন এবং আব্দুল মালেকের স্ত্রী সাজেদা খাতুন ও তার মেয়ে রাবেয়া খাতুন।

ফরিদুল ইসলাম ওরফে আকাশের (২৫) বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার গান্ধাইল ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ইতলী গ্রামে। আকাশ ২০১৫ সালে সিরাজগঞ্জের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে ডিপ্লোমা করেন। তারা দুই ভাই ও তিন বোন।

এদিকে, আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃত গোলাম মোস্তফা (৪৫) কাজিপুর উপজেলার গান্ধাইল গ্রামের সোলেমান তুফানির ছেলে।

ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, আটক এড়াতে পাঁচ নারী আত্মগোপনে রয়েছেন। আত্মগোপনকারীরা জেএমবির সক্রীয় সদস্য। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধর্মীয় তালিমের নামে জঙ্গি মদদ যোগাতেন এবং জেএমবি সদস্য সংগ্রহ করত।

এছাড়া ডিবি পুলিশের হাতে আটক রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রাজিয়া বেগমের বাসায় প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কথিত তালিম হতো। এ তালিমে দূর-দূরান্তের বেশ কিছু নারী ও এলাকার কয়েকজন ছাড়া বাকি গ্রামবাসীদের প্রবেশ ছিল নিষিদ্ধ। এই জঙ্গিরা পর্দার অজুহাতে প্রতিবেশীদের এড়িয়ে চলত।

সিরাজগঞ্জের ডিবি পুলিশের কয়েক দফা অপারেশনে অল্পের জন্য রক্ষা পায় আকাশ। সেই থেকে আকাশ আর এ অঞ্চলে ফিরে আসেননি। সারাদেশে জেএমবির জঙ্গি তৎপরতায় আকাশ সামরিক কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওহেদুজ্জামান বলেন, ফরিদুল জেএমবির একজন উচ্চপর্যায়ের নেতা। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি মাঝেমধ্যে গোপনে বাড়ি আসতেন। সম্প্রতি একটি স্থানে গোপন বৈঠক করার সময় পুলিশ অভিযান চালায়। দলের অন্য তিনজন সদস্যকে গ্রেফতার করতে পারলেও আকাশকে গ্রেফতার করা যায়নি।

সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমদ জানান, আকাশের মা ও বোনেরা জেএমবির সদস্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছিলেন। তারা এই সংগঠনের হাইকমান্ডের নির্দেশ পেলেই আত্মঘাতী হামলার উদ্দেশ্যে হিজরতে যাওয়ার জন্য নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। গ্রেফতারকৃতরা সবাই জেএমবির আত্মঘাতী দলের সদস্য বলে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন। এখন তারা কারাগারে আছেন।