মেইন ম্যেনু

গার্ডিয়ানের প্রশংসায় শেখ হাসিনার নেতৃত্ব

ব্রিটিশ প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ান গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক রিপোর্টে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেছে, ‘বাংলাদেশে অধিকাংশ মানুষ চালকের আসনে তাকে পেয়ে খুশি।’ আরেক রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আর কোনো রাজনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটার সম্ভাবনা নেই।

দৈনিক গার্ডিয়ান গত ২৭ সেপ্টেম্বর অনলাইন সংখ্যায় বলেছে, বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জনে সাফল্যের নজির। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসডিজি নিয়ে উচ্চ আকাঙ্ক্ষা পোষণ করছেন। তবে তিনি বলেছেন, দাতাদের এক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা রাখতে হবে।

২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আরেকটি রিপোর্টে ব্রিটিশ দৈনিকটি বলেছে, যখন দেশে অর্থনীতি বার্ষিক প্রায় ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে, অধিকাংশ জনগণের জীবন যাত্রার মান যখন বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং অতীতের সকল উত্তাল পরিস্থিতির তুলনায় দেশ যখন অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল রয়েছে, তখন অধিকাংশ বাংলাদেশি শেখ হাসিনাকে দায়িত্বে পেয়ে খুশি।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) একটি জরিপে ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশি জবাবদাতাদের অধিকাংশের সমর্থন পেয়েছে’ বলে তাদের রিপোর্ট প্রকাশ করার কয়েক মাস পর গার্ডিয়ানের এই স্বীকৃতি প্রকাশ পেলো।

গার্ডিয়ানযুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা গ্রুপটি আরো বলেছে, আইআরআই জরিপের ফলাফলে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জনগণের ইতিবাচক মনোভাব, জবাবদাতাদের ও দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যত সম্পর্কে আশাবাদ প্রতিফলিত হয়েছে।

ব্রিটিশ দৈনিক তাদের রিপোর্ট তৈরির আগে শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে। পত্রিকাটি তার প্রধানমন্ত্রীত্বের অধীনে বাংলাদেশের সাফল্যের বিবরণ দিয়ে বলেছে, তিনি জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ দারিদ্র্য বিমোচন ও উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জনে বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন এবং দেশে ব্যাপক সমর্থন ভোগ করছেন।

গার্ডিয়ান শেখ হাসিনাকে ‘বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয়, দীর্ঘ সময় ধরে সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালনকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

গার্ডিয়ান সাংবাদিক সাইমন টিসডাল ও এ্যানা রিডুটের সঙ্গে দেয়া সাক্ষাতকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমার কাজ হচ্ছে সাধারণ মানুষকে সহায়তা করা। আমি রাজনীতি জনগণের জন্য, আমার জন্য নয়।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ এখন গণতন্ত্র উপভোগ করছে। জনগণ চায় তাদের মৌলিক অধিকার। তাই, আমি জনগণের মৌলিক চাহিদা অর্থাৎ খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা, চাকুরির সুযোগ এবং একটি উন্নত জীবন নিশ্চিত করার জন্য তাদের সাহায্য করার চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হবে। তিনি আরো বলেন, দেশে সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে এবং জনগণ সন্তুষ্ট ও এগুলো উপভোগ করছে।

বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশ্লেষক ও লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিষ্টার নাদিম কাদির টেলিফোনে বাসসকে বলেছেন, গার্ডিয়ান রিপোর্টে পশ্চিমা বিশ্বের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে এবং পত্রিকার রিপোর্টে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে কৃতিত্ব দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, পশ্চিমা বিশ্ব এখন একটি উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখতে চায় এবং তারা প্রধানমন্ত্রীকে তার নেতৃত্বের জন্য সমর্থন করছে।

গার্ডিয়ান আরো লিখেছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মৌন সমর্থন পেয়েছেন বলে মনে হচ্ছে এবং তারা গুরুত্বপূর্ণ বস্ত্র শিল্প খাত নিয়ে উদীয়মান একটি শক্তির গুরুত্ব স্বীকার করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ‘পশ্চিমা কর্মকর্তার’ উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি আরো লিখেছে, ‘যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এই আশা করছে বলে মনে হচ্ছে যে, ২০১৯ সালে একটি ভাল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামী চরমপন্থা মোকাবেলায় পশ্চিমের জন্য অংশীদার হিসেবে শেখ হাসিনার গুরুত্ব গণতন্ত্রের ঘাটতি সম্পর্কে তাদের উদ্বেগ প্রশমিত করেছে।

পত্রিকায় আরো বলা হয়েছে, ভারত ও চীন যুগপৎভাবে সরকারের সমর্থক এবং উভয় দেশ তাদের ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাংলাদেশে বাড়াতে চাইছে।

গার্ডিয়ান বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয়ে সমালোচনার দৃষ্টিতে উল্লেখ করেছে যে, বিএনপি ২০১৪ সালে নির্বাচনে যোগ দেয়নি এবং নতুন করে নির্বাচনের দাবিতে ‘তাদের বিতর্কিত ইসলামপন্থী জোট’ জামায়াত ইসলামী দলের সঙ্গে মিলে কিছুদিন সহিংস বিক্ষোভ ও দেশব্যাপী হরতাল করেছে যা কোন ফল বয়ে আনেনি।

এতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, যখন শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপার্সনকে ফোন করেছিলেন এবং নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপি’র সন্দেহ দূর করার উপায় হিসেবে যৌথ প্রশাসনের একটি অন্তর্বর্তী সরকারে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ার প্রস্তাব করেছিলেন, তখন খালেদা জিয়া আলোচনার প্রস্তাব ‘ক্ষোভের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন’।

ঢাকায় অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র কর্মকর্তা রবার্ট ওয়াটকিনস পত্রিকাটিকে বলেছিলেন, তিনি বাংলাদেশে আর রাজনৈতিক সমস্যার সম্ভাবনা দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না যে, আর কোন বিস্ফোরণ ঘটবে।’

তিনি বলেছেন, যতদিন অর্থনীতিতে অগ্রগতি লাভ করবে, লোকজন ঢাকায় এসে কর্মসংস্থান পাবে, সরকার যতদিন লোকজনকে ব্যস্ত রাখতে ও খাদ্য দিতে পারবে, ততদিন তারা গণতন্ত্র নিয়ে তেমন উদ্বিগ্ন হবে না। জীবন অব্যাহত রাখা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

পত্রিকাটি আরো লিখেছে, শেখ হাসিনার বেশ কিছু রাজনৈতিক সমালোচক অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার সমর্থক হয়েছেন এবং নজির হিসেবে উল্লেখ করেছে যে, সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও, ডেইলী স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম অন্যান্য সমালোচকদের মতোই শেখ হাসিনার প্রতি তার অনিচ্ছাকৃত সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

আনামের বক্তব্য উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি লিখেছে, ‘তিনি দেশে জনপ্রিয়, সেনাবাহিনী তাঁর অনুগত, উন্নয়নের ক্ষেত্রে সাফল্যের নজির রয়েছে। হাসিনা প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। তার সমকক্ষ কেউ নেই।’

বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক শাসনের প্রসঙ্গে গার্ডিয়ান রাজনৈতিক শাসনের অধীনে প্রথম সারির বৈশ্বিক শান্তিরক্ষী হিসেবে সেনাবাহিনীর বর্তমান ভূমিকার বিষয়টিও উল্লেখ করেছে।

নাম প্রকাশ না করে একজন সাবেক জেনারেলের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি লিখেছে, সামরিক বাহিনীর শীর্ষ ব্যক্তি তাকে সমর্থন করছেন, শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সকলেই তার নিয়োগ করা ব্যক্তি।