মেইন ম্যেনু

গার্মেন্টের চাকরি ছেড়ে পীর ব্যবসা

বগুড়ার শেরপুরে গুয়াগাছি গ্রামের আয়নাল হোসেন গাজীপুরের এক গার্মেন্ট কারখানায় আট বছর ধরে চাকরি করেছেন। হঠাৎ চাকরি ছেড়ে দিয়ে ফিরে এলেন গ্রামে। এরপর ভুয়া এক মাজার দেখিয়ে শুরু করলেন পীর ব্যবসা, গাড়লেন আস্তানাও। আয়নাল হোসেন হয়ে গেলেন আয়নাল পাগলা।

আগামী ১৪ মার্চ সেই আস্তানায় তৃতীয় বার্ষিকী ওরশের আয়োজন করা হয়েছে। ওরশের পোস্টারে প্রধান অতিথি করা হয়েছে শেরপুর-ধুনটের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমানকে।

তবে এমপির ব্যক্তিগত সহকারী দাবি করেছেন, কোনোপ্রকার আলোচনা না করেই এমপিকে অতিথি করা হয়েছে।

এদিকে ওরশ ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মধ্যে। যে কোনো মুহূর্তে সংঘর্ষের শঙ্কা করছেন তারা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের গুয়াগাছি গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে আয়নাল হক(৪৩) দীর্ঘদিন ধরে গাজিপুর জেলার কোনবাড়ি এলাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করে। হঠাৎ করে গত ৩ বছর আগে গ্রামে এসে নিজেকে পীর বলে দাবি করে এবং তার বাড়ির পাশে গুয়াগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্নে একটি ভুয়া মাজার শরীফ তৈরি করে।

এ ব্যাপারে পিয়ার আলী, মোস্তাফিজার, জাহিদুল ইসলামসহ এলাকাবাসী জানায়, সপ্তাহের প্রতি বুধবার এই ঘরে কয়েকজন সাধু সন্যাসীবেশী আয়নালের সহযোগী হালকা-জিকির করে আর গাঁজা সেবন করে। এরা যদি এই ভণ্ডামো যদি বন্ধ না করে তাহলে আমরা আস্তানা ভেঙে দেব।

পীর ব্যবসার বিষয়ে আয়নাল পাগলার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে আয়নাল পাগলার ভাই আলামিন হোসেন জানায়, এখানে কোনো মাজার নেই। আমার ভাই কোনো পীর নয়। সে গার্মেন্টেসে ৮ বছর হলো চাকরি করে। তবে মাঝে মধ্যে এলাকায় এসে এই ঘরে বসে কয়েকজন মিলে গাঁজা খায়।

শেরপুর-ধুনটের সংসদ সদস্যের পিএস কোরবান আলী মিলন বলেন, এমপি মহোদ্বয়কে এই ওরশ মাহফিলে প্রধান অতিথি করেছে এটা আমরা জানি না। এছাড়াও আমাদের সাথে এ বিষয়ে কোনো আলোচনাও করা হয়নি।

শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের ঘটনা ওই এলাকার কেউ আমাদের জানায়নি। এ ধরনের ঘটনা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।