মেইন ম্যেনু

গুটিবসন্তের ভাইরাস ধ্বংসের উদ্যোগ

ইতিহাসের অন্যতম একটি মরনব্যধি গুটিবসন্ত। বিশ শতকে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, ৩০ কোটিরও বেশী মানুষ। তাই এই ভাইরাস থেকে মানুষদের বাঁচাতে বিশ্বব্যপি উদ্যোগ গ্রহন করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে, আগামী সপ্তাহে গুটিবসন্তের জ্যান্ত ভাইরাস ধ্বংসের ব্যপারে সিদ্ধান্ত গ্রহন করবে। যদিও এখন পর্যন্ত গুটি বসন্তের যেসকল ভাইরাসের নমুনা সংরক্ষন করা হচ্ছে, সেগুলো ধ্বংস নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মত।

গুটিবসন্তের টিকার ব্যপক ব্যবহারে এই ভাইরাস নির্মূল একসময় সম্ভব হয়। ৩০ বছরের বেশী সময় আগে বিজ্ঞানীরা এই ভাইরাস পুরোপুরি নুরমুল করা সম্ভব হয়েছে বলে ঘোষণা দেন। কিন্তু তা সর্তেও এই ভাইরাস নিয়ে গবেষণার তাগিদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার দুটি ল্যাবরেটরিতে কিছু ভাইরাস জ্যান্ত অবস্থায় সংরক্ষন করা হচ্ছে। কিন্তু এখন এসকল জ্যান্ত নমুনাও ধবংসের দাবি উঠেছে। ধবংসের পক্ষে যুক্তি এসেছে যে, যেহেতু এই রোগ আর পৃথিবীতে নেই, সেহেতু এ সবের নমুনা আর রাখার কোনো দরকার নেই। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সকল দেশ এটা মনে করে না। সংস্থাটির গুটিবসন্ত কর্মসূচির প্রধান ড. আলেজান্ড্রো কোস্টা বলেন, নমুনা ধ্বংস নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সংস্থাটির গুটিবসন্ত কর্মসূচির প্রধান ড. আলেজান্ড্রো কোস্টা বলেন, নমুনা ধ্বংস নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার যে ল্যাবরেটরির প্রধান ড. ইঙ্গার ডেমন মনে করেন, গুটিবসন্ত গবেষণায় এখনও কিছু ফাঁক রয়ে গেছে। তিনি চান, গবেষণার স্বার্থে গুটিবসন্তের জ্যান্ত নমুনা আরো কিছুকাল সংরক্ষণ করা হোক। গবেষকদের আরেকটি আশংকা হচ্ছে, ভবিষ্যতে জীবাণু অস্ত্র হিসেবে গুটি বসন্তের ব্যবহার। কেননা গত শতকের সত্তরের দেশকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এরকম অস্ত্র তৈরি করেছিল। ১৯৯০-এর দশকে আবার সেসব ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে তখন। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার সময় এসব অস্ত্র যে কিছুটা হলেও বেহাত হয়নি সে নিশ্চয়তা পুরোপুরি কেউ দিতে পারছে না।গুটি বসন্তের জীবন্ত নমুনা ধবংসের বিষয়টি এখনও আলোচনার ইশয়। তবে আগামী সপ্তাহে এই আলোচনার নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।