মেইন ম্যেনু

গুলশান ট্র্যাজেডি: ‘দেশের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত ছিলাম’

যেভাবে পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের মোকাবিলায় আমরা সেভাবেই এগিয়ে যায়। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের ছোড়া একটি গ্রেনেড আমাদের পায়ের সামনে এসে পড়ে। এরপর শুধু গ্রেনেডটি বিস্ফোরিত হওয়ার কথা মনে আছে, আর কিছু মনে নেই। তবে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাওয়ার আগেই যেকোনো পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে তৈরি ছিলাম। দেশের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত ছিলাম। গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় আহত কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের স্পেশাল ওয়েপন অ্যান্ড ট্যাকটিক্স (সোয়াট) টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন কুমার কুণ্ডু কাছে এভাবেই বলছিলেন সেই রাতের কথা। ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার (এসি) রবিউল করিম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন খান। খবর জাগো নিউজের।

১ জুলাই রাতে জঙ্গি হামলার পরপরই প্রাথমিক প্রতিরোধে এগিয়ে যাওয়া টিমে ছিলেন সুজন। জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেডে আহত হয়ে এখন তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বুক ও পেট বাদে শরীরে অসংখ্য স্প্লিন্টার ঢুকেছে তার। গুরুতর জখম রয়েছে মাথাতেও। অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রেও (আইসিইউ) থাকতে হয়েছে তাকে। অবস্থার উন্নতি হওয়ার পর সোমবার তাকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

সুজন বলেন, সেদিন ব্যারাক থেকে সংবাদ পেয়ে টিমের সঙ্গে দ্রুত চলে যাই গুলশানে। জঙ্গিদের প্রতিরোধ করার টার্গেট নিয়েই ‘যুদ্ধে’ নামি। তবে দুর্ভাগ্য শেষ পর্যন্ত থাকতে পারিনি।

অসুস্থ হলেও হাসপাতালে প্রতিবেদকের কাছে নিজের অভিজ্ঞতা খুব উৎসাহের সঙ্গে বলছিলেন এসআই সুজন।

শরীরের অবস্থা কেমন? জানতে চাইলে বলেন, অস্বস্তি লাগে। খুব গরম লাগে। এসিতে কাজ হয় না।

হাসপাতালের ওয়ার্ডে সুজনের পাশেই একটি এসি থাকলেও তার বড় ভাই পত্রিকা দিয়ে বাতাস করছিলেন। সুজনের মাথায়, দুই হাতে ও দুই পায়ে স্প্লিন্টার লাগায় সেগুলো ব্যান্ডেজ করে রাখা হয়েছে। তার শরীরের অনেক স্প্লিন্টার বের করা হলেও অনেকগুলো এখনো ভেতরেই রয়ে গেছে।

পরিবারের দাবি সুজনের চিকিৎসায় যেন কোনো অবহেলা না হয়। সে যেন সর্বোচ্চ চিকিৎসা পায়।

শুক্রবারের হামলায় দুই পুলিশ ও ছয় জঙ্গিসহ মোট ২৮ জন নিহত হন বলে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে জানায় আইএসপিআর। সোয়াট টিমের ৫ জনসহ এই ঘটনায় আহত হন ৩০ জনের বেশি পুলিশ।

সুজনের শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে সোয়াট টিমের পুলিশ পরিদর্শক জুলহাস আকন্দ বলেন, আহতদের মধ্যে সুজনের অবস্থা সবচেয়ে গুরুতর ছিল। বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট গলার নিচ থেকে পেট পর্যন্ত কাভার করে। জ্যাকেটে ঢাকা অংশ বাদে সুজনের শরীরের সব অংশে স্প্লিন্টার ঢুকেছে। অপারেশন শেষে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তাকে ওয়ার্ডে দেয়া হয়।

পুলিশের গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আহাদুজ্জামান ও গুলশানের ওসি সিরাজুল ইসলামসহ বর্তমানে পুলিশের মোট ২২ সদস্য ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহত এই পুলিশ কর্মকর্তাদের ‘জাতীয় বীর’ বলে আখ্যায়িত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

গেল দুবছরে বাংলাদেশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে একাধিক সমমনা ব্লগার, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ভিন্ন মতাবলম্বী, লেখক, প্রকাশক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক। গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছে হোসনি দালানেও। আইএসসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের নামে এসব ঘটনার দায় স্বীকার করে বিবৃতি এসেছে।

বেশকটি ঘটনার পর আইএসের নামে দায় স্বীকারের বার্তা এলেও সরকার বলে আসছে বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব নেই। এসব কর্মকাণ্ডের জন্য সরকার আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি), জেএমবির মতো দেশীয় জঙ্গি সংগঠনগুলোকেই দায়ী করছে।

তবে শুক্রবারের সর্বশেষ এই হামলার ভয়াবহতা ছাপিয়ে গেছে আগের সবগুলোকে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশের এই ঘটনাটিকে।

এই হামলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিত তরুণরা জড়িত থাকায় দেশে জঙ্গিবাদের বিস্তৃতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।