মেইন ম্যেনু

গুলশান থেকে মধ্যরাতে রক্তাক্ত অবস্থায় আটক সেই যুবকই ‘শাওন’

গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে বন্দুকধারীদের হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় যে যুবককে আটক করা হয়েছে, তার পরিচয় মিলেছে।

তার খোঁজে রোববার থেকেই এক নারী গুলশানে এসে অবস্থান করছেন। তার নাম মাকসুদা বেগম। তিনি নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা। ছেলের ছবি দেখিয়ে তিনি দাবি করছেন, ওই যুবকের নাম শাওন।

মাকসুদা বেগম বলেছেন, ‘এক বছর আগে শাওন এই রেস্টুরেন্টে কাজ নিয়েছে। তারই ছোট ভাই এই রেস্টুরেন্টের মালিকের বাসায় কাজ করেন। তিনিই শাওনকে এখানে কাজটি পাইয়ে দেন।’

মাকসুদা বেগম বলছিলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যায়ও ছেলে আমাকে ফোন দিয়েছিল। বলেছে, মা আমি বোনাস পেয়েছি, তবে সেলারিটা পাইনি। পেলে আগামী রোববার (গত) বাসায় যাবো।’

সোমবার (৪ জুলাই) ওই রেস্তোরাঁর এক কর্মচারীও আটক যুবককে জাকির হোসেন শাওন বলে শনাক্ত করেছেন।

গতকাল এবং আজ সোমবার দুই দিন খোঁজাখুজির পর সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ১০২ নম্বর ওয়ার্ডে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছেলে জাকির হোসেন শাওনকে (২২) খুঁজে পান তিনি।

ঢামেক রেজিস্ট্রি খাতা অনুযায়ী শাওনকে রোববার রাতে ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে ভর্তি করানো হয়। তবে কে তাকে ভর্তি করিয়েছে সে সংক্রান্ত কোনো তথ্য সেখান থেকে জানা সম্ভব হয়নি।

সরেজমিনে ওয়ার্ডের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সাদা পোশাকে পুলিশ প্রহরা রয়েছেন। তারা কোনোভাবেই কাউকে শাওনের কাছে যেতে দিচ্ছেন না। এমনকি শাওনের মাকেও যেতে দেয়া হয়নি সন্তানের কাছে।

দূর থেকে সন্তানকে দেখে কান্নায় ভেঙে পরেন মা মাসুদা বেগম। বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, অনেক খুঁজেও ছেলের খোঁজ পাচ্ছিলেন না। তার ছেলেকে বেদম প্রহার করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে ছয় বন্দুকধারী হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জিম্মিকে হত্যা করে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

শনিবার সকালে কমান্ডো অভিযান চালিয়ে জিম্মি সঙ্কটের অবসানের পর দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে আইএসপিআর। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উদ্ধার অভিযানে ছয় হামলাকারী নিহত হয়েছেন, একজন ধরা পড়েছেন। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।