মেইন ম্যেনু

গুলিস্তানের ফকির মাল্লুর ৪৩ জন বউ!

আজব বিশ্বের যতসব অকল্পনীয় ঘটনা প্রতিনিয়ত আমাদের সামনে এসে হাজির হয়,কিছু ঘটনা নিতান্তই অদ্ভুদ মনে হলেও একেবারেই বাস্তব সত্য. আপনারা হয়তো ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কিংবা রাজা রামমোহন রায়ের সময়কার ঘটনা কিছুটা হলেও জানেন,সেই সময়ে ততকালীন হিন্দু সমাজে বিয়ে নিয়ে কিছু প্রথা প্রচলিত ছিলো,ব্রাক্ষ্মের মেয়ের সাথে ব্রাক্ষ্মের ছেলের বিয়ে হবে কোনক্রমেই এই নিয়ম অগ্রাহ্য করা যাবে না।

দেখা গেলো কোন পরিবারে দশ থেকে বারো জন মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে কিন্তু কোন ব্রাক্ষ্মন ছেলে পাচ্ছে না.কনের বাবা অনেক চিন্তিত এই সময় পাওয়া গেলো কোন এক ব্রাক্ষ্মন বয়স্ক পাত্রের,মেয়ের বাবা জাত রক্ষার্থে তার সব মেয়েকেই এক ব্রাক্ষ্মনের সাথে বিয়ে দিতেন,এভাবে দেখা যেত কোন ব্রাক্ষ্মন ছেলের প্রায় দুই তিনশত বউ থাকতো,এই ব্রাক্ষ্মন রা তাদের বউয়ের হিসাব রাখার জন্য কাগজে লিখে রাখতো,বিভিন্ন পালা পার্বণে ব্রাক্ষ্মন সব বউয়ের কাছে যেতে পারতো না এইজন্য তার পিএস কে পাঠাতেন,

মেয়েটি হয়তো আশা করে আছে তার স্বামী আসবে বিয়ের পরে এই প্রথম দেখা হবে, হ্যাঁ মেয়েটি হয়তো তার স্বামীর চেহারা ভুলেও গেছে,সেই পিএস এসে উপহার ত নিয়েই গেলো উপরন্তু ব্রাক্ষ্মনের বউয়ের সাথে রাত কাটিয়ে গেলো। ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কাছ থেকে অনেকেই বিধবা বিবাহ করার জন্য টাকা নিতো কিন্তু বিয়ে করা ত দুরের কথা টাকা নিয়ে বিদ্যাসাগরের সামনেই আর আসতো না।

এখন আপনাদের সামনে যে ঘটনাটির বিবরণ দিবো সেটা রাজা রামমোহন রায় কিংবা বিদ্যাসাগরের সময়কার ঘটনা না,এই সময়ের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। আপনারা অনেকেই হয়তো অনেক ফকিরের নাম শুনেছেন কেউ ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবনের চাকা ঘুরিয়েছেন আবার কেউবা ব্যাতিক্রম ভাবে জীবন যাপন করেন.কিন্তু বিয়ে করে রেকর্ড সৃষ্টি করা ফকির সম্ভবত এই প্রথম. এই প্রথম এক আজব ফকিরের সন্ধান মিললো গুলিস্থান হোটেলের সামনে, এই ফকির দেখতে খুব সুদর্শন,নাম মাল্লু শাহ,পেশায় ভিক্ষুক হলেও এখন আর ভিক্ষা করেননা.

মাল্লু শাহের ভিক্ষা করার আর প্রয়োজন নেই কারণ ভিক্ষা করার জন্য আছে তার তেতাল্লিশ জন বউ,তাহলে চলুন জেনে নিই মাল্লু শাহের সেই অজানা কথা. মাল্লু শাহের বয়স এখন প্রায় 72 বছর, থাকেন কলকাতার সদর স্টিটের ফায়ার ব্রিগেডের ঠিক একটু সামনে গুলিস্থান হোটেলের কাছে,মাল্লুর বয়স যখন পাচ বছর তখন থেকেই তিনি এই অঞ্চলে আছেন,প্রথমে তিনি নিউমার্কেট থেকে শুরু করে মার্কাস স্ট্রিট এবং রাফি আহমেদ রোড অঞ্চলে ভিক্ষা করতেন,এভাবে এক সময় এই অঞ্চলে ভিক্ষুকদের সর্দার হন. এই অঞ্চলে নতুন কোন ভিক্ষুক এলে প্রথমে মাল্লুর অনুমতি নিতে হতো. মাল্লু প্রথমে বিয়ে করেন মাত্র তেরো বছর বয়সে,

এরপর প্রায় ত্রিশ বছর সংসার করার পরে তার বউ মারা যাই,মাল্লু ভিক্ষুকদের সর্দার হবার পর থেকে তার রুচিতে পরিবর্তন আসতে থাকে,যখন কোন মধ্যবয়সী কিংবা অল্প বয়সী মেয়ে ভিক্ষা করার জন্য অনুমতি নিতে আসতো মাল্লু তাদেরকে বেশ ভালোভাবেই নিয়ম কানুন বুঝিয়ে দিতেন,এদের মধ্য কাওকে পছন্দ হলে মাল্লু তাকে বিয়ে করতেন,মাল্লু এভাবে প্রায় পঞ্চাশের অধিক মহিলাকে বিয়ে করেছেন,এখনো পর্যন্ত মাল্লুর সাথে আছে তেতাল্লিশ জন. মাল্লুর সাথে কথা বলে জানা গেছে সব বউ কে তিনি ভিক্ষা করার পরিপূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন তবে প্রতি বউকে প্রতিরাতেই তার কাছে হাজিরা দিতে হয়,প্রতি বউয়ের থেকে মাল্লু প্রতিদিন 20 টাকা করে নিয়ে থাকে,

নিজের বউ ছাড়া অন্যান্য ভিক্ষুকদের থেকে মাল্লু প্রতি সপ্তাহে মাসোহারা নিয়ে থাকে,তবে মাল্লুর তেতাল্লিশ জন বউ কে নিয়ে একসাথে থাকেন না,মাল্লুর সাথে থাকে মাত্র তিনজন বউ,এদের বয়স বিশ থেকে ত্রিশের মধ্য. মাল্লু জানান আরো অধিক মেয়েকে তিনি বিয়ে করে ভিক্ষাবৃত্তির পরিপূর্ণ স্বাধীনতা দিতে চান.