মেইন ম্যেনু

গুলিস্তানের রাস্তা-ফুটপাত এখন হকারমুক্ত

রাজধানীর অন্যতম জনবহুল ও ব্যস্ত এলাকা গুলিস্তানের ফুটপাতগুলো থাকে হকারদের দখলে। তবে মহানগর পুলিশ কমিশনারের উদ্যোগে সেই চিরচেনা দৃশ্যপট পাল্টে যেতে শুরু করেছে। নেই হকারের রাস্তা দখল করে দোকানের পসরা, তাদের হাঁকডাক। হকারমুক্ত রাস্তায় নির্বিঘ্নে হাঁটছে পথচারীরা।

তবে গুলিস্তান ঢুকতে বা বের হতে রাস্তাগুলোতে যানজট এখনো কমেনি। এই জটও আস্তে আস্তে থাকবে না বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, গুলিস্তান মার্কেটের সামনে, ফোয়ারার আশপাশ, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে, স্টেডিয়ামের সামনে, আহাদ পুলিশ বক্সসংলগ্ন এলাকা, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, ফুলবাড়িয়া ও বিভিন্ন মার্কেটের সামনের রাস্তার ফুটপাত ফাঁকা। দোকানের পসরা নেই। চৌকি পর্যন্ত সরিয়ে নিয়েছেন হকাররা।

যানজট দূর করতে পুলিশ সদস্যরা গাড়ির চালকদের নানা নির্দেশনা দিচ্ছেন। তবে ফুলবাড়িয়া এলাকায় কয়েকজন হাকারকে মার্কেটের সামনে পণ্য হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

তবে গুলিস্তানের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে যানজট ছিল। এ কারণে অন্য এলাকায়ও কিছুটা প্রভাব পড়ে।

পল্টন থানার এসআই আবদুল করিম জানান, গুলিস্তানকে পাল্টে দেওয়ার জন্যই তারা নিরলস কাজ শুরু করেছেন। এই এলাকার রাস্তার দুই ধারে কোনোভাবেই দোকান বসতে দেওয়া হবে না। এসব দোকানের কারণে যানজট বেশি হয়। আবার রমজানের এই সময় গুলিস্তান এলাকায় ব্যাপক যানজট দেখা দেয়।

তবে পুলিশের এ উদ্যোগে এই এলাকার প্রায় ১০ হাজার হকারের পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

বিল্লাল হোসেন নামে এক হকার বলেন, ‘আমি ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে মার্কেটের সামনের ফুটপাতে টুপি বিক্রি করি। কিন্তু গত দুদিন হলো এখানে বসতে পারছি না। দোকান বন্ধ থাকায় আয়ও নেই। পরিবার নিয়ে কোথায় যাব? তারপর আবার সামনে ঈদ। অনেকেই এই ধরনের সমস্যায় পড়েছেন।’

বুধবার ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গুলিস্তানে হকার উচ্ছেদ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, গুলিস্তান, পুরানা পল্টন, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, জিরো পয়েন্ট, ফুলবাড়িয়া, বায়তুল মোকাররম এলাকার রাস্তায় ও ফুটপাতে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকান উচ্ছেদ অভিযান মাসব্যাপী অব্যাহত থাকবে। এসব এলাকার সড়কগুলোতে যানজট নিরসন করতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।



« (পূর্বের সংবাদ)