মেইন ম্যেনু

গুয়াতেমালার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

গুয়াতেমালার পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বুধবার প্রেসিডেন্ট ওতো পেরেজ মলিনার বিরুদ্ধে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা বিবিসি বলছে, বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎয়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মাত্র একদিন আগেই তার দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছিল স্থানীয় এক আদালত।

মঙ্গলবার দেশের পার্লামেন্টে তার বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতি অভিযোগের তদন্তের স্বার্থে প্রেসিডেন্টের দায়মুক্তির আইন বাতিল করার ওপর ভোটাভুটি হয়। ভোটে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পরদিনই এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়, যাতে স্বাক্ষর করেছেন বিচারপতি মিগুয়াল অ্যাঙ্গেল গালভেজ। ফলে এখন তাকে আদালতের কাছে সোপর্দ করতে আর কোনো বাধা রইল না।

এ সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট পেরেজের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘প্রেসিডেন্ট আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন।’

প্রেসিডেন্ট পেরেজ গুয়েতেমালার ব্যবসায়ীদেরকে ঘুষের বিনিময়ে শূল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য আমদানির সুযোগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠার পরই তার পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে বিরোধীরা। বিরোধীদের চাপের মুখে পেরেজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন দেশটির প্রধান কৌঁসুলি।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার পার্লামেন্ট ওই ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয় যাতে তার দলের লোকজনও অংশ নিয়েছিলেন। যদিও গত মাসেই পার্লামেন্ট প্রেসিডেন্টের দায়মুক্তি বাতিলের অন্য একটি প্রচেষ্টা বাতিল হয়ে গিয়েছিল। তবে এই উদ্যেগের পরই থেকেই তার পদত্যাগের দাবিতে সরকারের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। আগামী জানুয়ারি মাসেই শেষ হতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট পেরেজের ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ।

গুয়েতেমালার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে দুর্নীতি কেলেঙ্কারীর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট রোক্সানা বালদেতিসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। ইতিমধ্যে বালদেতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কারাগারে বসে তিনি এখন বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুণছেন।

এদিকে রোববার দেশটিতে যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে সেটিও বাতিলের দাবি করেছেন কয়েকজ কৌঁসুলি। তবে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না প্রেসিডেন্ট পেরেজ।