মেইন ম্যেনু

গৃহকর্মীকে নির্যাতনের দায়ে পাবনায় কলেজ শিক্ষক দম্পতি আটক

পাবনা পৌর এলাকার খেয়াঘাটপাড়া মহল্লায় গৃহকর্মীকে অমানসিক নির্যাতন করার অভিযোগে গৃহকর্ত্রী কামরুন্নাহার মৌসুমী (২৬) ও তার স্বামী কলেজ শিক্ষক ইমাম হোসেনকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে তাদের নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী তাসলিমা খাতুনকেও (২২) উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তদের আটক ও নির্যাতিতাকে উদ্ধার করা হয়।

আটক কামরুনানাহার মৌসুমীর স্বামী ইমাম হোসেন গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার তরুণ মেরুয়া গ্রামের আবুল হাফিজের ছেলে ও সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক। নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী তাসলিমা গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের হরতকিরটেক গ্রামের দুলাল হোসেনের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, পাবনা শহরের খেয়াঘাটপাড়া এলাকার সুব্রত চক্রবর্তীর বাড়িতে ভাড়া থাকেন ইমাম হোসেন। তাসলিমা খাতুন তার ভাড়া বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন কাজের অজুহাতে তাসলিমাকে বটি ও লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন চালাতেন ইমাম হোসেনের স্ত্রী কামরুন্নাহার। দিনের পর দিন এমন নির্যাতনে পাগল প্রায় তাসলিমা গত ১১ জুলাই সকালে বাড়ির আবর্জনা ফেলতে গিয়ে ভয়ে আর বাড়ি ফেরেননি।

এ ঘটনায় ওইদিন রাতে সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ইমাম হোসেন। এরপর সোমবার (১৩ জুলাই) রাত ১০টার দিকে আহত তাসলিমাকে রাস্তায় অভুক্ত অবস্থায় কাতরাতে দেখে তাকে গৃহকর্তার বাসায় পৌঁছে দিয়ে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ ভাড়াটিয়ার বাসা থেকে নির্যাতনের শিকার তাসলিমাকে উদ্ধার এবং নির্যাতনকারীদের আটক করে।

উদ্ধারের পর নির্যাতিতা তাসলিমা খাতুন জানান, মৌসুমী প্রায়ই তার উপর নির্যাতন চালাতেন। কখনও বটি দিয়ে কোপাতেন, কখনও লাঠি দিয়ে মারপিট করতেন। এজন্য ভয়ে আর ওই বাসায় আসেননি তিনি।

তবে, আটকের পর মৌসুমী ও ইমাম হোসেন নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে বলেন, তাসলিমার শরীরে কাটা দাগ আগে থেকেই ছিল। আমরা মাঝে মধ্যে তার ক্ষতস্থান ড্রেসিং করে দিতাম।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুল হক জানান, এলাকাবাসীর দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে আমরা আহত গৃহকর্মী তাসলিমাকে উদ্ধার করি এবং স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেছি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।