মেইন ম্যেনু

গেজেট পেলেই লতিফ সিদ্দিকীর আসনে উপনির্বাচন

আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে ৬ সেপ্টেম্বর শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও বহু নাটকীয়তার পর গত ১ সেপ্টেম্বর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ফলে তার সদস্য পদের বিষয়টির নিষ্পত্তির প্রয়োজন মনে করছে না ইসি। এখন শুধু তার সংসদ থেকে আসন শূন্য সংক্রান্ত গেজেট হাতে পেলে আসনটিতে উপ-নির্বাচন করবে কমিশন।

এদিকে যদিও এখনও পর্যন্ত সংসদ স্পিকার তার পদত্যাগ পত্রটি গ্রহণ করার বিষয়টি জাতীয় সংসদে অবহিত করেননি। স্পিকার তার পদত্যাগ গ্রহণ করে সংসদকে অবহিত করার পর সংসদ থেকে আসন শূণ্য সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে। এরপর সংসদ কমিশনকে বিষয়টি টাঙ্গাইল-৪ শূন্য আসনে কমিশন উপ-নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অন্যদিকে বিধি অনুসারে, কোনো জাতীয় সংসদের কোনো আসন শূন্য হলে তার ৯০ দিনের মাথায় ওই আসনে নির্বাচনের আয়োজন করতে হয়।

এদিকে লতিফ সিদ্দিকীর পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পরপর টাঙ্গাইল- ৪ (কালিহাতী) উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করছেন প্রায় ডজনখানেক সম্ভাব্য প্রার্থী।

নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে আমরা এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হলে আমরা আপনাদের জানাবো।’

উপ নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘উনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এখন আর আমাদের শুনানি করার প্রয়োজন হবে না। এখন সংসদ থেকে আসন শূন্য সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ হলে আমরা আইন মোতাবেক উপ-নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

এর আগে লতিফ সিদ্দিকীকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্যপদ থাকা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। পরে তার সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে সিদ্ধান্তের ভার ইসির উপর পড়ে। এর ফলে কমিশন ২৩ আগস্ট লতিফ সিদ্দিকী ও তার দল আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিকে শুনানিতে ডাকে। কিন্তু ওই দিনে লতিফ সিদ্দিকী ইসিতে উপস্থিত হয়ে কমিশনের কাছে সময় চাইলে শুনানি স্থগিত রাখা হয়। পরবর্তীতে ৬ সেপ্টম্বর লতিফ সিদ্দিকীর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

ওই সময় নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেছিলেন, ‘উনি আমাদের কাছে সময় চেয়েছিলেন আমরা তাকে সময় দিয়েছি। এর মধ্যে উনি পদত্যাগ করলে এ বিষয়ে অন্য সিদ্ধান্ত আপনাদের জানাবো।’

তবে লতিফ সিদ্দিকী নিজেই পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে দেয়ায় তার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে জটিলতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবসান হয়েছে বলে মনে করেন সিনিয়র নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মোবারক। তিনি বলেন, ‘তার বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে, আর ইসির করণীয় নেই এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত ৬ তারিখের মধ্যে জানিয়ে দেবো।’

তিনি আরো বলেন, ‘সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে অনুসরণে দল থেকে বহিষ্কারে সংসদ সদস্য পদ বাতিল বা সংসদ সদস্য হিসেবে থাকবার অযোগ্যতার বিষয়টি আর আমলে নেয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না কমিশনের।’

ইসি সূত্রে জানা যায়, লতিফ সিদ্দিকী নিজে পদ ত্যাগ করায় নির্বাচন কমিশনকে আর জটিলতায় যেতে হচ্ছে না। এমনতিতে শুনানি করা বিষয়ে ইসির কমিশনারা দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ ও মো. শাহ নেওয়াজ শুনানির পক্ষে ছিলেন আর আব্দুল মোবারক ও বিগ্রে. জেনারেল জাবেদ আলী শুনানির বিপক্ষে ছিলেন বলে জানা যায়।

সংসদ সূত্রে জানায় যায়, স্বহস্তে লিখিত পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে গৃহীত হলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করবেন তিনি। পদত্যাগপত্রটি বিধিসম্মত হলে সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ১৭৮ (৩) অনুযায়ী বিষয়টি অধিবেশনেই সংসদকে অবহিত করবেন স্পিকার।

পরবর্তীতে আসন শূন্য ঘোষণা সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের পর বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হলে উপ নির্বাচনের ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, গেল বছর ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় নিউইয়র্কে টাঙ্গাইল সমিতির এক অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামায়াত দু’টোর ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীর যতটা বিরোধী, তার চেয়ে বেশি হজ আর তাবলিগের বিরোধী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা প্রকাশের পর শোরগোল ওঠে। তাকে গ্রেপ্তার এবং মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেয়ার দাবি তোলে ইসলামী বিভিন্ন সংগঠন। পরবর্তীতে তাকে মন্ত্রিসভা ও আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।