মেইন ম্যেনু

গোপনে প্রেম, আবার গোপনেই লঞ্চের কেবিনে প্রেমিকার গলায় ছুরি

গোপনে প্রেম, গোপনেই লঞ্চের কেবিনে প্রেমিকার গলায় ছুরি চালায় প্রেমিক। প্রেমের ক্ষেত্রে সত্যিকারের ভালোবাসা না থাকলে রুপ নেয় সংঘাতে আর প্রতারণায়।

এমন ঘটনার শিকার হলেন কেরানীগঞ্জের জিনজিরা পীর মো.পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির গোলাপ-শাখার ছাত্রী পারুল আক্তার।

বাড়ির পাশে ব্রাইট পাবলিক একাডেমীতে কোচিং করার সময় গোপনে শিক্ষক আল মামুনের সাথে মন দেয়া নেয়া। সেই থেকে প্রেম, অবশেষে প্রেমিকের ছুরির আঘাতে চিরবিদায়।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার বিকেলে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের ৭ নং পল্টুন এলাকায় পটুয়াখালীগামী লঞ্চ ঈগল-৩ এর তৃতীয় তলার ৩০৮নং কেবিনে।

একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে মা-বাবা পাগলপ্রায়। তারা বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন।

পারুলের বাবা মো. হোসেন আলী গেদা মিয়া। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি আগানগর ছোট মসজিদ রোড এলাকায় চায়ের দোকান করি। পারুল আমার একমাত্র মেয়ে।

তিনি বলেন, সে জিনজিরা পীর মো. উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। কি কারণে আমার মেয়ে সদরঘাট গিয়েছিল জানি না। ওর স্কুলে পরীক্ষা চলছে। আজও আমার মেয়ে পরীক্ষা দিয়ে এসেছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। খুনি মামুনের ফাঁসি চাই।

তিনি বলেন, পারুল আমার একমাত্র মেয়ে। আমি দিনমজুর হয়েও মেয়েকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতাম। মেয়ে আমার বড় হবে, সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে।

মা লাবনী আক্তার জানান, আমার মেয়ে পরীক্ষা দিয়ে আইসা দুপুরের খাবার খায়। পরে আমি কাজে চলে যাবার সময় পারুলও কোচিংয়ে যায়। এরপর সন্ধ্যায় মানুষের মুখে শুনি- আমার মেয়েকে জবাই করেছে। লাশ সদরঘাট লঞ্চের কেবিনে পড়ে আছে।

জানা যায়, আটক আল মামুন ব্রাইট পাবলিক একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. শামীমের চাচাত ভাই। দেশের বাড়ি বরগুনা জেলায়। তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ইস্পাহানী এলাকায় থেকে পুরান ঢাকার কবি নজরুল কলেজে পড়ালেখা করেন।

পড়ালেখার খরচ চালাতে চাচাত ভাই শামীমের কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করেন। কোচিং সেন্টারেই ওই শিক্ষকের কাছে পারুল আক্তার পড়ালেখার ফাঁকে প্রেমের শিক্ষা নেয়।

পারুল আক্তারকে শিক্ষাদানের সময় প্রেমের ফাঁদে ফেলে লম্পট আল মামুন। তার ফাঁদে পড়ে গতকাল বিকেলে শিক্ষকের হাত ধরে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাতে চেয়েছিল পারুল।

বিভিন্ন গণমাধ্যম ও লোকমুখে খবরটি পৌঁছলে শোকের ছায়া নেমে আসে জিনজিরা পীর মো. পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী, কার্যকরী কমিটি ও শিক্ষার্থীদের চোখে ছিল জল। কান্নায় ভেঙে পড়েন সহপাঠীরা।

তারা বলেন, পারুল গতকাল আমাদের সাথে পরীক্ষা দিয়ে গেছে। ও খুব ভাল মেয়ে ছিল। কারো সাথে কোনো সময় ঝগড়াজাটি করতো না। ওর এমন খবর শুনে কীভাবে আজ পরীক্ষা দেব বুঝতে পারছি না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু রায়হান বলেন, পরুল বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির গোলাপ শাখার ছাত্রী ছিল। বুধবার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ের ২৫ মার্কের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষ করে ১২টার মধ্যে বাড়ি চলে যায় সে। পারুল খুবই নরম প্রকৃতি মেয়ে ছিল। আল মামুন ছাড়াও এ হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানাাচ্ছি।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান আল মামুনের বরাদ দিয়ে বলেন, পারুলের সাথে মামুনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বুধবার তারা কাউকে কিছু না বলে বরগুনায় যাওয়ার জন্য লঞ্চের কেবিনে ওঠে।

তিনি বলেন, সেখানে মামুন পারুলকে অন্য একটি ছেলের সাথে সম্পর্ক আছে বলে জানতে চায়। তখন পারুল তা অস্বীকার করলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তার সাথে থাকা ছুরি দিয়ে গলায় পোচাতে থাকে। এ সময় পারুলের গলা থেকে রক্ত গড়িয়ে কেবিনের বািইরে আসলে লঞ্চের লোকজন এসে তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনায় নিহত পারুল আক্তারের বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।