মেইন ম্যেনু

গোপন শহর বানাচ্ছে ভারত

২০১২ সাল, ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় কর্ণটক রাজ্য। কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে সরকারি কর্মকর্তারা লামবানি যাযাবরদের অঞ্চল খালি করতে শুরু করে। যুগের পর যুগ ধরে ওই অঞ্চলে বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠি বাস করে আসছে। ভারতের কেন্দ্রিয় শাসনের আওতায় তাদের জীবনযাপন পরিচালিত না হলেও সরকারের জন্য কখনও তারা হুমকির কারণ হয়ে দাড়ায়নি। কিন্তু ২০১২ সালের মাঝামাঝি হঠাৎ করে সরকার কেন পুরো অঞ্চলটি খালি করে দিলো তা বুঝতে পারেনি ওই অঞ্চলের অধিবাসীরা। শুধু তাই নয়, কিছু বুঝে ওঠার আগেই গোটা এলাকার সীমানায় কাটাতাড়ের বেড়া লাগানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা এবং আদিবাসী নেতারা ওই ঘটনার এক পর্যায়ে কেন্দ্রিয় সরকারের সঙ্গে এবিষয়ে কথা বলতে যান এবং তারা প্রশ্ন করেন কেন তাদের উৎখাত করা হলো। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সদুউত্তর দেয়া হলো না। তখন অধিবাসীরা একটি পরিবেশবাদী সংগঠনের সহায়তা নেন, কিন্তু ওই সংগঠনটিও বেশিদূর আগাতে পারেনি। কারণ তারা জানতে পারে, এই প্রকল্পটি খোদ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পরিচালনা করা হচ্ছে। যে কারণে এই প্রকল্প নিয়ে কোনো আইনী লড়াই করা যাবে না। আদালতে মামলা করেও কোনো লাভ হবে না।

এক বছর যেতে না যেতেই ক্রমশ নিরাপত্তা বেষ্টনিতে ঢাকা কিছু দালান উঠতে থাকে ওই স্থানে। রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সবেচেয়ে গোপন দুটি সংস্থা এই পুরো প্রকল্পের পেছনে শুরু থেকেই আছে। আর এই দুটি সংস্থাই মূলত ভারতের পরমাণু সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করে। এ কারণে অনেকেই সন্দেহ করছেন, ভারত পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তান ও চীনকে টেক্কা দিতে গোপনে পারমাণবিক স্থাপনা থেকে শুরু করে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে যাচ্ছে। অবশ্য এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই প্রকল্পটি মূলত সরকারের পরমাণু গবেষণা এবং অব্যাহত বিদ্যুৎ চাহিদা যোগানোর জন্য চালানো হচ্ছে।

কিন্তু ফরেনপলিসি নামের পত্রিকাটির মতে, ভারত সরকারের কিছু সাবেক কর্মকর্তা এবং লন্ডন ও ওয়াশিংটনভিত্তিক কিছু স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এই পুরো প্রকল্পটি পরিচালনা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক ইউরেনিয়াম জ্বালানি মজুদ করা হচ্ছে এবং তা হাইড্রোজেন বোমা তৈরিতে ব্যবহার করা হতে পারে। ভারতের পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশি রাষ্ট্র চীন এবং পাকিস্তান এই পদক্ষেপকে অভিসন্ধিমূলক বলে জানালেও, ভারতের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। এযাবৎ পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের চারদফায় যুদ্ধ হয়েছে সীমান্ত ইস্যুতে।

১৯৭৪ সালের পর ভারত কখনও তাদের পরমাণু সক্ষমতা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। শুধু তাই নয়, ভারত সরকার তার চাল্লাকেরে প্রকল্প নিয়ে কোনো বিস্তারিতই এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি। যেহেতু এটি একটি সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত এলাকা তাই আন্তর্জাতিক বিশ্বের গবেষকদের পক্ষে চাইলেও এই প্রকল্পে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। কিন্তু সেন্টার ফর পাবলিক ইন্টিগ্রিটি(সিপিআই) স্থানীয়দের এবং সাবেক ভারতীয় বিজ্ঞানীদের সঙ্গে এবিষয়ে বিস্তর আলোচনা চালায়। সংস্থাটির কাছে ওই গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রকল্পটির পেছনে অনেক সেনাবাহিনী কর্মকর্তা থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ের বিজ্ঞানীরাও জড়িত। পুরো প্রকল্পের একাংশের কাজ আগামী ২০১৬ সাল নাগাদ শেষ হতে পারে বলে জানা গেছে।

দ্য ইন্ডিপিডেন্ট স্টকহলম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউট(এসআইপিআরআই) এক পরিসংখ্যানে জানায়, পাকিস্তানের ১২০টি পরমাণু অস্ত্রের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভারতও ৯০ থেকে ১১০টি পরমাণু অস্ত্রের মালিক হয়েছে। চীনের কাছে রয়েছে প্রায় ২৬০টি পরমাণু বোমা। সাবেক অস্ট্রেলিয় বিজ্ঞানী জন কার্লসনের মতে, ভারত-পাকিস্তান এবং চীনের মধ্যে ভারত অধিক হারে পরমাণু সমৃদ্ধকরণের দিকে আগাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের আদলে ভারতে তৈরি হচ্ছে থার্মোনিউক্লিয়ার প্রকল্প, যদিও চীন ১৯৬৮ সালেই ওই প্রকল্প তৈরি করেছিল। এখানে উল্লেখ্য যে, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইসরায়েল, ফ্রান্স এবং চীনের কাছে ইতোমধ্যেই থার্মোনিউক্লিয়ার অস্ত্র মজুদ আছে।