মেইন ম্যেনু

গোল নয় যেন একটি শিল্প! (ভিডিও)

তিকিতাকা সুতিকাগার স্পেন। নির্দিষ্ট করে বললে বার্সেলোনা। ছোট ছোট পাসে পুরো মাঠ দাপিয়ে বেড়াবেন তারা। প্রতিপক্ষকে নিয়ে খেলবেন। এরপর সুযোগ বুঝে বল জড়াবেন প্রতিপক্ষের জালে। পেপ গার্দিওলা যুগে বার্সার ফুটবলের দর্শনই তো ছিল এটা। যার ওপর ভর করে শুধু বার্সেলোনাই শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসেনি, বসিয়েছে স্পেনকেও।

গার্দিওলার তিকিতাকার চর্চা যে বন্ধ হয়নি তা এখনকার বার্সেলোনাকে দেখলেই বোঝা যায়। ছোট ছোট পাস, প্রতিপক্ষের রক্ষণবুহ্য ভেদ করে বল নিয়ে বেরিয়ে আসা এবং অসাধারণ সুন্দর গোল করার ক্ষমতা বুঝি এই একটি ক্লাবেরই রয়েছে। বার্লিনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে সেটারই প্রমান হলো যেন আরেকবার।

বার্লিনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে কিক অফের বাঁশি বাজার সাথে সাথে জুভেন্তাসের সম্মিলিত আক্রমণ ঝাঁপিয়ে পড়ছিল যেন বার্সেলোনার রক্ষণের ওপর। মাত্র ৪ মিনিটেই সেই চাপ সামলে নিলো কাতালানরা। এরপর যেন সবুজ ক্যানভাসে একটি শিল্প অঙ্কন করলেন বার্সার শিল্পিরা। মাঠের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। বার্সার ৯জন ফুটবলারের পায়ের টাচ লাগলো। এরপর ফিনিশিংটা এলো ইভান র‌্যাকিটিচের পা থেকে।

মাত্র চতুর্থ মিনিটেই ঘটল এ ঘটনা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের ইতিহাসে চতুর্থ দ্রুততম এবং বার্সার ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম গোল হলো এদিন। বার্লিনের গ্যালারি একাংশ তখন স্তব্ধ। তবে তাদের চোখে যেন ভাসছে তখন একটি ছন্দ। বার্সা গোলরক্ষক টার-স্টেগান আর লুইস সুয়ারেজ ছাড়া বাকি সবার টাচ লেগেছে বলটিতে। এরপরই এলো নন্দিত সেই গোলটি।

প্রথমে বাম প্রান্ত থেকে জর্দি আলবা বলের নিয়ন্ত্রণ নেন। এরপর তিনিবল ঠেলে দিলেন নেইমারকে। বল নিয়ে কারিকুরি করে নেইমার সেটা ব্যাক পাস দিলেন মাচেরানোকে। মাচেরানো স্কয়ার পাসে সোজা ডান পাশে বল পাঠিয়ে দিলেন দানি আলভেজের কাছে। আলভেজ পাস দিলেন ডান উইংয়ে দাঁড়ানো মেসিকে।
মেসি খানিকটা ড্রিবল করলেন। ততক্ষণে তার কাছে পৌঁছে গেলেন আলভেজ। আবার তার কাছে দিলেন মেসি। আলভেজ বল নিয়ে সোজা সামনে এগোলেন। আবারও পথ বন্ধ দেখে বল দিলেন বুসকেটসকে। বুসকেটস দিলেন পাশে দাঁড়ানো পিকেকে।

পিকে বল টেনে নিলেন সোজা বাঁ দিকে। সেন্টারের বৃত্তের ভেতর থেকে বাঁয়ে, একটু সামনে এগোনো ইনিয়েস্তাকে দিলেন। ইনিয়েস্তা মাঝারি মাপের শটে বল দিলেন নেইমারকে। নেইমার বল টেনে নিয়ে গেলেন ডান দিকে। দিলেন বুসকেটসকে। বুসকেটস দিলেন আলভেজকে। আলভেজ পাশেই দাঁড়ানো মেসিকে।

ছোট আর মাঝারি পাস খেলতে খেলতেই হুট করে মেসি লং বল ঠেললেন দৌড়ে জুভদের বক্সের বাঁয়ে চলে যাওয়া আলবাকে। আলবা বল পাঠালেন বক্সে ঢুকে পড়া নেইমারকে। নেইমারকে আটকাতে তখন পুরোপুরি ব্যাস্ত জুভেন্তাস। এরই ফাঁকে বক্সে চলে আসলেন ইনিয়েস্তা। সবই হচ্ছে ওয়ান টাচ পাসে। ইনিয়েস্তার আলতো পাস চলে গেল রাকিটিচের কাছে। জুভেন্তাসের রক্ষণবুহ্য ভেদ করতে র‌্যাকিটিচের মোটেও কষ্ট করতে হলো না। ১৬ পাসে রচিত হয়ে গেলো অন্যতম দৃষ্টি নন্দন একটি গোলের ইতিহাস।

দেখুন দৃষ্টিনন্দন গোলটিসহ বার্সার সবগুলো গোল