মেইন ম্যেনু

গোড়ালির ব্যথা দূর করুন সহজ কিছু উপায়ে

আমাদের শরীরের সবটা ভার সারাদিন যে অঙ্গটিকে বয়ে বেড়াতে হয় সেটি হচ্ছে পা। হাঁটবার সময় আমাদের স্বাভাবিক ওজনের ১.২৫ গুন বেশি ও দৌড়বার সময় স্বাভাবিক ওজনের ২.৭৫ গুন বেশি ওজন আমাদের শরীর পায়ের ওপর ফেলে। তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রতিদিনের নানা কাজ কর্মের পর গোড়ালিতে বা পায়ের নীচে ব্যথা হওয়াটা বেশ সাধারণ ব্যাপার। তারওপর আমাদের পায়ের মোট ২৬ টি হাড়ের ভেতরে ক্যালকেনিয়াস বা গোড়ালির হাড় সবচাইতে দীর্ঘ ও অরক্ষিত অবস্থায় থাকে। ফলে দিনের শেষে খানিকটা গোড়ালিতে খানিকটা ব্যথা অনুভব করলেও সেটা আপনার শরীরের জন্যে খুব বেশি ক্ষতিকারক নয়।

সময়ের সাথে সাথে এই ব্যথা সেরে যাবে। কিন্তু তবুও প্রতিদিন যেহেতু এই পাকে আমরা নানাকাজে ব্যবহার করি, ব্যথা নিরাময় ব্যপারটি, সেটি যতই কম ভয়ংকর হোক না কেন, তাই নিজেদের প্রয়োজনেই খুব দ্রুত পায়ের বা গোড়ালির ব্যথা সারিয়ে নেওয়াটা প্রচন্ড দরকারি একটি কাজ।

চলুন দেখে নিই গোড়ালির ব্যথা দূরীকরণের কিছু সহজ উপায়। সাধারনত এই এক গোড়ালির ব্যথাকে নানাভাবে ভাগ করে দিয়েছেন চিকিত্সকেরা। আর তাই ব্যথার বিভিন্নতা অনুসারে এর চিকিত্সা পদ্ধতিও পাল্টে যায়। যদিও নানারকম প্রদাহ, জুতোর সমস্যা এবং ফ্ল্যাট জুতো পড়ার করনেই প্রধানত গোড়ালি ব্যথা হয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

অবশ্য সকালবেলায় বা সারাদিনে যেকোন সময় খানিকটা বিশ্রাম নেওয়ার পর পায়ে নীচে বা গোড়ালিতে ব্যথা অনুভব করতে পারেন আপনি কোনরকম কারণ ছাড়াই। এক্ষেত্রে গোড়ালির ব্যথা দূর করতে কিছু শারীরিক কসরত্ ব্যবহার করে দেখতে পারেন আপনি। এগুলো হচ্ছে-

১. দেয়ালকে ধাক্কা মারা

সকালবেলায় যেকোন একটি দেয়ালে সামনে গিয়ে দাড়ান। এরপর আপনার দু হাত দেয়ালে রেখে এক পা সামনে এবং আরেক পা পেছনে রেখে অনেকটা ধাক্কা দেওয়াম মতন ভঙ্গীতে থাকুন। কমপক্ষে ত্রিশ সেকেন্ড এই অবস্থায় থাকবার পর পায়ের অবস্থান বদলে ফেলুন।

২. বোতল ব্যবহার করা

একটি ছোট বোতলকে প্রথমে রেফ্রিজারেটরে রেখে ঠান্ডা করুন। এরপর সেটাকে তোয়ালে দিয়ে জড়িয়ে নিন আর পায়ের নীচে রেখে খানিকটা এদিক ওদিক করুন। পায়ের নীচের অংশ আর গোড়ালি দিয়েই সেটাকে সামনে পিছনে নিয়ে আসুন। কমপক্ষে ৫ মিনিট ধরে এই কাজটি করুন।

৩. হাতের চাপ প্রদান

দুই হাতের দুই বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে পায়ের নীচের অংশে চাপ প্রদান করুন ( প্রিভেনশন )। খুব আস্তে ও খানিকটা চাপসহ নিজের আঙ্গুলদুটোকে গোড়ালি, আঙ্গুল ও পায়ের নীচের অন্যান্য অংশে মালিম করুন। ১ মিনিট ধরে কাজটি অব্যাহত রাখুন। এরপর অন্য পায়ের সাথেও একই কাজ করুন। তবে শারীরিক কসরত্ ছাড়াও আরো বেশকিছু পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন আপনি গোড়ালির ব্যথা নিরাময়ের জন্য। এক্ষেত্রে পানি চিকিত্সা পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন আপনি। এতে করে প্রথমে, খানিকটা গরম পানি বালতিতে রেখে সেটাতে নিজের পা ডুবিয়ে রাখতে হবে আপনাকে কমপক্ষে ৩ মিনিটের জন্য। এরপর ১০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের জন্য ঠান্ডা পানিতে পা ডুবিয়ে রেখে সাধারণ পানি দিয়ে পা পরিষ্কার করে নিতে হবে। এছাড়াও পায়ের গোড়ালির ব্যথা নিরাময় করতে আপনি ব্যবহার করতে পারেন ক্লোভ অয়েল, বরফ বা ভিনেগার ( টপ ১০ হোম রিমেডিস )। এগুলোর প্রতিটিই গোড়ালির প্রদাহ দূর করতে সাহায্য করবে আপনাকে।