মেইন ম্যেনু

গ্যাসের সমস্যা দূর করতে…

কমবেশি অনেকেই গ্যাসের মতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েন। সব বয়সের মানুষই এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষ করে ঈদের সময়টাতে অতিরিক্ত তেল-চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়া, নিজেদের বাড়িসহ স্বজনদের বাড়িতে আতিথিয়তা নেয়া গ্যাসের সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয় অনেক বেশি। তেল-চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খেলে পাকস্থলীর পুরোটা পরিপাক করতে পারে না। ঘন ডালও সহজে পরিপাক হয় না। কিছু খাবার অপরিপাক অবস্থায় চলে যায় ক্ষুদ্রান্ত্রে। সেখানে থাকা খাবার হজমকারী ব্যাকটেরিয়ার আয়ু খুবই কম থাকে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো খাবার হজম হওয়ার আগেই মরে যায়, তখন তা থেকেও গ্যাস সৃষ্টি হয়। অস্বস্তি শুরু হয় এখান থেকেই। একটু বয়স্কদের বেলায় সমস্যাটি আরও বেশি প্রকট হয়।

তাই সকাল ও দুপুরে এসব খাবার পরিমিত খাওয়া ভালো। সারাদিনের হাঁটা-চলা বা কাজের কারণে সহজে পরিপাক হয়ে যাবে। বিকেল বা রাতে খাবার কম খাওয়া উচিৎ। পরিমিত আহার গ্যাসের প্রকোপ কমায়। তবে গ্যাসের ব্যথা কমাতে কিছু ঘরোয়া উপায়ও অবলম্বন করা যেতে পারে।

লেবু

একটি মাঝারী লেবুর রস, আধা টেবিল চামচ বেকিং সোডা এক কাপ পানিতে মিশিয়ে নিন। ভালো করে মিশে যাওয়া পর্যন্ত নাড়তে হবে। এবার মিশ্রণটি খেয়ে নিন। নিয়মিত খেলে গ্যাসের সমস্যায় আরাম পাওয়া যায়। গ্যাসের ব্যথায় তাৎক্ষণিক আরাম পেতে চাইলে হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খান।

প্রাকৃতিক চা

বিভিন্ন রকম প্রাকৃতিক চা যেমন সবুজ চা, পুদিনা চা, তুলসী চা এগুলো হজম ক্ষমতা বাড়ায়। গ্যাসের সমস্যা সমাধানে এগুলো খেতে পারেন নিয়মিত।

তেঁতুল পাতা

তেঁতুল পাতা মিহি করে বেটে এক গ্লাস দুধের সঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন পান করুন। গ্যাসের সমস্যা দূর হয়ে যাবে সহজেই।

পানি পান

গ্যাসের সমস্যায় পানি খাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সারা দিনে প্রচুর পরিমাণে পানি খেলে পেটে এসিড হয় না। প্রতিদিন সকালে খালিপেটে আধা লিটার পানি পান করার অভ্যাস থাকলে হজম শক্তি বাড়ে। ফলে গ্যাসের সমস্যা কমে যায় কিছুদিনের মধ্যেই।

আদা

পেটে গ্যাসের সমস্যায় সবচেয়ে সহজ ঘরোয়া সমাধান হল আদা। প্রতিবেলা খাবার খাওয়ার পর এক টুকরা আদা মুখে নিয়ে চিবিয়ে রস খান। তাহলে পেটে গ্যাস জমবে না এবং গ্যাস্ট্রিকের ব্যথার থেকে মুক্তি মিলবে। যারা আদা সরাসরি খেতে পারেন না তারা রান্নায় বেশি করে আদা ব্যবহার করুন।

আলুর রস

আলু বেটে কিংবা ব্লেন্ডারে ব্ল্রেন্ড করে রস বের করে নিন। এই রস প্রতিবার খাওয়ার আগে ১ চা চামচ খেয়ে নিন। এভাবে তিন বেলা খাওয়ার আগে আলুর রস খেলে কয়েকদিনের মধ্যেই গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।

হলুদ

পেটে গ্যাস হলে তরকারিতে সামান্য বেশি পরিমাণে হলুদ দিন। হলুদ পেটের গ্যাস কমাতে খুবই সাহায্য করে।

গ্যাসের সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। পেটে গ্যাসের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা ক্যানসারের লক্ষণও হতে পারে। একেকজনের আবার একেক খাবারে গ্যাসের সমস্যা হয়। তাই আপনার যে খাবারে সমস্যা মনে হবে সে খাবার এড়িয়ে চলায় ভালো। তাহলে আর গ্যাসের মতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হবে না।