মেইন ম্যেনু

গ্যাস ও বিদ্যুতে ভর্তুকি দেয়া থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে সরকার

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু দাবি করেছেন, সরকার এখন গ্যাসে ভর্তুকি দিচ্ছে, বিদ্যুতেও দিচ্ছে। এ জায়গা থেকে আমাদের বের হতে হবে। সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে আগামী বাজেটে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় যেন অবদান রাখতে পারে, আমরা সেভাবে এগোচ্ছি। তিনি ভর্তুকির বিষয়টি উল্লেখ করে আরো বলেছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন উন্নয়নে পেট্রোবাংলার কাছে যে প্রত্যাশা ছিল। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। শনিবার বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ সেন্টার (ইপিআরসি) আয়োজিত বিদ্যুৎ ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মিটিগেটিং চ্যালেঞ্জ ইন এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার থ্রো রিসার্চ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎখাতে পেট্রোবাংলা একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। দেশের অর্থনৈতিক খাতে একটি সংস্থা অনেক সহায়তা করতে পারে। তবে পেট্রোবাংলা এখনও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এ অবস্থা থেকে পেট্রোবাংলাকে বের হতে হবে। তিনি আরো বলেছেন, সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে। বিকল্প জ্বালানির দিকে নজর দিতে হবে। বিকল্প জ্বালানির বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে হবে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকেই যেতে হবে। কেননা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়া সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব নয়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতিবছর নতুন করে দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করতে সরকার কাজ করছে। আমরা আর লোড শেডিংয়ে যেতে চাই না। ২০১৮ সালের মধ্যে সব জায়গায় বিদ্যুৎ দিতে চাইছি। মিশ্র ফুয়েলে যেতে হবে, আমাদের কয়লা আনতেই হবে। তিনি আরো বলেন, সরকার জ্বালানি খাতকে স্বাবলম্বী করতে চায়। এই জন্য শেয়ার মার্কেটে যাবে। বন্ড চালু করবে। আগামীতে বাজেটেও এই বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এদিকে ইউনেস্কো রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি আপত্তি জানিয়েছে। তারা তাদের অবস্থানও বাংলাদেশকে জানিয়ে দিয়েছে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিএনপির অবস্থান। সেই সঙ্গে বিভিন্ন সংগঠনও এর রিরোধিতা করছে। বিএনপি কর্মসূচীও দিয়েছে। আরো কর্মসূচী দিতে চাইছে।

এই অবস্থায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সুন্দরবনের পাশে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে ইউনেস্কো যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এই ব্যাপারে আগামী সপ্তাহে জবাব দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আমর মনে হয় আগামী সপ্তাহের মধ্যে ইউনেস্কোর জবাবটা দিয়ে দেব। ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের কাছে সরকারে পক্ষ থেকে বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ উদ্যোগে মৈত্রী সুপার পাওয়ার থারমাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি না করেই এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে। সম্প্রতি ইউনেস্কো উদ্বেগ জানিয়ে এ প্রকল্প বাতিল করার আহ্বান জানায়। সরকারকে এই ব্যাপারে চিঠি দিয়েছে। ইউনেস্কো শুধু রামপাল নিয়ে নয়, অন‌্য বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে।

বিপু আরো বলেন, ইউনেস্কোর চিঠিতে নদীর ব্যাপারগুলো এসেছে, এই উদ্বেগগুলো গুরুত্ব সহকারে দেখছি এবং সেভাবে জবাব তৈরি করছি। এখানে কিছু টেকনিক্যাল বিষয় আছে, যেগুলো আমাদের জানাতে হবে। এর আগেও তাদেরকে জানানো হয়েছে। এখন বিস্তারিত জানানো হবে। এর মাধ্যমে আশা করা যাচ্ছে তাদের যে আশঙ্কা আছে তা থাকবে না। তাছাড়া এই প্রকল্প নিয়ে ইউনেস্কোর আশঙ্কা থাকতে পারে, অনেকেরই আছে, ইউনেস্কোকে আমাদের বক্তব্যটা দিতে পারলে হয়ত তারা বুঝবে যে তা সঠিক নয়। তার পাল্টা প্রশ্ন ছিলো সরকার অ‌্যানালাইসিস করে দুই বিলিয়ন ডলারের রিস্ক নিতে যাচ্ছে ? কেন সরকার এমন কাজ করবে যাতে দুই বিলিয়ন ডলারের রিস্ক নিয়ে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে?

প্রতিমন্ত্রী আরো দাবি করেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই। উন্নত প্রযুক্তি আমারা কেউ দেখিনি। যতক্ষণ পর্যন্ত না দেখা হবে , ততোক্ষণ পর্যন্ত আমরা ভাববো সুন্দরবন- ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, যারা এর বিরোধিতা করছেন, তাদের আবেগ দিয়ে কথা না বলে যুক্তি উপস্থাপন করতে বলেন। তার দাবি দেশের উন্নয়ন পিছিয়ে দেওয়ার জন্যও রামপাল নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতে পারে। তিনি বলেন, যে ডেভেলপমেন্টের দিকে দেশ এগোচ্ছে, যেভাবে আমারা বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করতে পারছি, হতে পারে অনেকে হয়ত এই ডেভেলপমেন্ট পিছিয়ে ‍দিতে চাচ্ছে। অনেকে নিজেরাও বুঝতে পারছেন না, তারা সেই রাজনীতিতে ঢুকে যাচ্ছেন। আমরা তো ঢাকা থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে গজারিয়াতে কোল প্ল্যান্ট করছি,এ নিয়ে তো কেউ উদ্বিগ্ন নয় বা হচ্ছে না।

প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, সরকার সব ধরনের সতর্কতার কথা মাথায় রেখেই এগোচ্ছে। কেউ যদি সায়েন্টিফিক ব্যাখা দিয়ে বলেন- যে পথে আমরা যাচ্ছি, সেটা সায়েন্টিফিকভাবে ভুল, সেটাও আমরা নিতে চাই, এখনো নিতে চাই।