মেইন ম্যেনু

গ্যাস দিয়ে ভাত-তরকারি রান্নার মানে হয় না : মুহিত

পাইপলাইনে বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ বন্ধের বিষয়ে নিজের অবস্থানের কথা আবার তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তিনি বলেন, ‘গ্যাস মূল্যবান সম্পদ। এ দিয়ে ভাত-তরকারি রান্নার কোনো মানে হয় না।’

শনিবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে পেট্রোবাংলার পেট্রো সেন্টারে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে এক অনুষ্ঠানে নিজের এই অবস্থানের কথা তুলে বলেন অর্থমন্ত্রী।

নানা সময় মন্ত্রীরা আবাসিকে গ্যাসের সংযোগ বন্ধের বিষয়ে জানিয়েছেন। এ জন্য সিলিন্ডারে এলপিজি আমদানিকে সরকার উৎসাহিত করছে বলেও জানিয়েছেন তারা। জ্বালানি মন্ত্রণালয় গত এপ্রিলে গ্যাসের আবাসিক সংযোগ বন্ধের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল।

তবে বারবার আশ্বাস দেয়ার পরও এলপি গ্যাস সিলিন্ডার সহজলভ্য করতে পারেনি সরকার। এক হিসাবে দেখা যায়, বর্তমানে দেশে প্রায় চাল লাখ টন এলপি গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশ থেকে আমদানি হয় দেড় লাখ টনের কিছু বেশি। আর সরকারিভাবে সরবরাহ করা হয় ২০ হাজার টন। এই বিপুল পরিমাণ ঘাটতির কারণে এলপি গ্যাসের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি পরিশোধ করতে হয় ভোক্তাদেরকে। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে এলপি গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা করে। ২০১১-১২ অর্থবছরে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও নেয়। এর অংশ হিসেবে সরকারি খাতে বাগেরহাটের মংলা ও চট্টগ্রামের কুমিরায় ১০০ টন করে দুটি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারজাত কারখানা করার কথা বলা হয়। কিন্তু কোনটি আলোর মুখ দেখেনি।

আবাসিক সংযোগের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন, পরিবহণে জ্বালানি হিসেবে গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে। তবে দেশে গ্যাসের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে জানিয়ে সাত বছর ধরে আবাসিক সংযোগ সীমিত করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গ্যাসের অফুরন্ত মজুদ আছে ভেবেই দেশে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। এই প্রাকৃতিক সম্পদের বাণিজ্যিক ব্যবহারে লাভ অনেক বেশি। আর এটা রান্নায় ব্যবহার মানে অপচয় ছাড়া কিছু নয়। পৃথিবীর খুব কম দেশেই রান্নায় গ্যাস ব্যবহার করা হয়।’

বাংলাদেশে চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ সব সময় কম। আর এ কারণে গ্যাসভিত্তিকবিদ্যুৎগুলো কোনো সময় সর্বোচ্চ ক্ষমতায় চালানো যায় না। প্রায়ই বন্ধ রাখা হয় সার কারখানাও। আর সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশে মোট চাহিদার ১২ শতাংশ গ্যাস ব্যবহার হয় আবাসিকে।