মেইন ম্যেনু

গ্রামীণফোন: ক্ষুব্ধ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, মুনাফা নিয়ে ব্যস্ত বললেন টেলি প্রতিমন্ত্রী

মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের সেবার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম।ওই ক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম মন্তব্য করেছেন, ‘গ্রামীণফোন মুনাফা করতে ব্যস্ত।’ এদিকে গ্রামীণফোন জানিয়েছে, ‘তারা গ্রাহক সেবার জন্য সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করছে। নেটওয়ার্ক হালনাগাদের কাজ চলায় এ ধরনের সমস্যা হয়ে থাকতে পারে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আজ বুধবার তার ফেসবুক ওয়ালে গ্রামীণফোনের সেবার মান নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন। এতে ঝড় তোলে ফেসবুকে। অনেকেই খুব আগ্রহ নিয়ে সেখানে মন্তব্য করেছেন। অনেকে স্ট্যাটাসটিতে লাইকও দিয়েছেন, শেয়ারও করেছেন অনেকে। আর মন্তব্যকারীদের মধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমও ছিলেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম তার ওয়ালে লিখেছেন, গ্রামীণফোনে সমস্যাটা কী। কল করা সম্ভব হচ্ছে না। কলড্রপ হচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। তিনি অভিযোগ করেন, গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক দুর্বল। তিনি তার বাসায় নেটওয়ার্ক পান না বলে উল্লেখ করেন। এ ব্যাপারে দুই বছর আগে সহযোগিতার অনুরোধ জানালেও তিনি গ্রামেীণফোন থেকে কোনও সহযোগিতা পাননি বলে জানান।

screen Shots

এদিকে তারানা হালিম স্ট্যাটাস দেখে মন্তব্য করেন, আমি তাদের (গ্রামীণফোন) বার বার বলেছি সেবার মান বাড়াতে, কলড্রপ সমস্যার সমাধানও করতে বলেছি। এমনকি টেলিনরকে পর্যন্তও বলেছি। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, সেবার মান বাড়ানোর চেয়ে মুনাফা করার প্রতি তাদের আগ্রহ বেশি। তারা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। এখন সময় এসেছে তাদের তা প্রমাণের।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গ্রামীণফোনের উপ-পরিচালক (হেড অব এক্সটার্নাল কমিউনিকেশন্স) সৈয়দ তালাত কামাল বলেন, আমরা সমস্যার কথা জেনেছি। মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আশা করি খুব শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী যে অভিযোগটি করেছেন তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সেখানে আমাদের কর্মকর্তাদের পাঠাব। তারা এ সমস্যার সমাধান করে ফেলবেন। তিনি এ ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন।

তিনি জানান, সারাদেশে গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক উন্নয়নের কাজ চলছে। এ কারণে হয়তো মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর ওখানে সমস্যা হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর স্ট্যাটাস বা পোস্ট পড়ে অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। গ্রামীণফোনের এই সমস্যা নিয়ে কথা বলায় ধন্যবাদও জানিয়েছেন অনেকে। আবার অনেকেই নিজ নিজ এলাকার একই সমস্যার কথাও বলেছেন। একইসঙ্গে বলেছেন আরেক অপারেটর রবি নেটওয়ার্ক নিয়েও। তবে টেলিটক মোবাইলের সেবার মান উন্নত করারও পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে।

মানিকগঞ্জের সবুজ হোসেন বলেছেন, মানিকগঞ্জেও একই সমস্যা। তবে তিনি গ্রামীণের পাশাপাশি আরেক অপারেটর রবির কথাও বলেছেন।

পারভেজ রনি নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন, গ্রামীণফোন অন্যান্য অপারেটরের চেয়ে বেশি টাকা মোবাইল থেকে কেটে নেয়।

মো. মোস্তফা মাহবুব অভিযোগ করেছেন, প্রত্যন্ত এলাকায়ও একই সমস্যা। তিনি নেটওয়ার্কের উন্নয়নের জন্য দুইবার গ্রামীণফোনকে ই-মেইল করেছেন কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। শুধু সৌজন্যতার খাতিরে একবার তাকে ফোন করা হয়েছে।

জাহাঙ্গীর টিটু অভিযোগ করেন, সব জায়গায় গ্রামীণফোনের এই একই সমস্যা।

সাভারের আবু সালেহ নাসিমও বলেছেন, এখানেও একই সমস্যা।

রিপন চৌধুরী পরামর্শ দেন, মোবাইল অপারেটরগুলোর মধ্যে বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি করা গেলে এমনিতেই ভালো সেবা পাওয়া যাবে।

মঞ্জুরুল হক বাবু লিখেছেন, গ্রামীণফোন গ্রাহক বাড়ায় কিন্তু তারা তাদের সিগন্যাল ও নেটওয়ার্কের কোনও উন্নয়ন করে না।

সাজেদুর রহমান সুমন লিখেছেন, সবচেয়ে ডাকাত কোম্পানি গ্রামীণফোন। এই কোম্পানি কখনওই যে গ্রাহকের কথা চিন্তা করে না সেটা তাদের অফারগুলো দেখলেই বোঝা যায়। আর অফারগুলো গ্রহণ করলে কোনও কাজে আসে না ।

সিদ্দিকুর রহমান লিখেছেন,এতদিন কলড্রপের মধ্যে ছিলাম। এখন আবার ইন্টারনেট ড্রপের কাজ শুরু করেছে গ্রামীণফোন। শুনেছি এতেও নাকি অনেক আয় করে গ্রামীণফোন । কিন্তু গ্রাহক সেবার দিকে কোনও নজর নেই।