মেইন ম্যেনু

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই শেষ আটে ব্রাজিল

ইমারের অনুপস্থিতিতে একটা শঙ্কা ছিলই। গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের দুঃসহ স্মৃতি সেই শঙ্কাকে উষ্কে দিচ্ছিল বারবারই। কিন্তু সব শঙ্কাকে ধুলোয় উড়িয়ে কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল স্থান করে নিল ‘ব্রাজিলে’র মতোই। থিয়াগো সিলভা আর ফিরমিনহোর দুই গোলে ২-১ গোলে ভেনেজুয়েলাকে হারিয়ে নিজেদের সম্মান অক্ষুণ্নই রাখল সেলেসাওরা।
দলগত নৈপুণ্যেই কাল এসেছে ব্রাজিলের এই জয়। অধিনায়ক সিলভাও পর্যবেক্ষণও ওটাই, ‘আমরা আজ দলগত নৈপুণ্যের ওপর ভর করে সাফল্য পেয়েছি। ফুটবল খেলাটা এভাবেই খেলতে হয়।’ তবে কী নেইমারকে মিস করেনি ব্রাজিল? নাহ্, তা কী করে হয়। দলগত খেলা খেললেও নেইমারকে ঠিকই মিস করেছে দল’, বলেছেন সিলভা। নেইমারের মতো খেলোয়াড়কে মিস করবে না এমন দল আর আছে নাকি?
কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপ ‘বি’ রানার্সআপ প্যারাগুয়ে। গোটা দলের মনোযোগ এখন থেকেই নিবদ্ধ। ২০১১ সালের কোপার শেষ আটের লড়াইয়ে এই প্যারাগুয়ের কাছে হেরেই যে আশাভঙ্গ হয়েছিল ব্রাজিলের। ২০১৫ সালে এসে অমন একটা আশাভঙ্গের বেদনায় নীল হতে চায় না কার্লোস দুঙ্গার দল।
সিলভাও ব্যাপারটি মাথায় রেখেছেন। আর রেখেছেন বলেই প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালকে অনেক ‘কঠিন’ ম্যাচ বলে মনে হচ্ছে তাঁর, ‘এই পর্যায়ে কোনো দলকেই খাটো করে দেখা যায় না। প্রতিটি দলই কাপ জয়ের যোগ্যতা রাখে। প্যারাগুয়ের ব্যাপারে তো আমাদের বিশেষ অভিজ্ঞতা আছে। এই দলটির বিপক্ষে তাই বাড়তি সতর্ক হতেই হচ্ছে। শনিবারের ম্যাচে ওদের হারানোটা বাড়তি তৃপ্তিই জোগাবে।’
ম্যাচের আগেই অবশ্য কলম্বিয়া-পেরু ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হওয়ার খবর পেয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে কাল মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। এক পয়েন্টেই যে তাদের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হচ্ছে, এই তথ্যেই হয়তো নির্ভার খেলাটা বেরিয়ে এল ব্রাজিলীয় দলের মধ্য থেকে। ম্যাচের ৯ মিনিটেই এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণটাও রইল তাদের হাতেই। রবিনহোর কর্নার থেকে দারুণ এক সাইড ভলিতে দলকে এগিয়ে দেন সিলভা।
দলকে এগিয়ে নেওয়ার গোলটির সময় সিলভা স্মরণ করেন মাঠের বাইরে বসা নেইমারকে। নেইমারের জার্সি নম্বর ইশারা করে উদ্‌যাপনের সময় তিনি সবাইকে জানিয়ে দেন, মাঠের বাইরে থাকলেও নেইমারের বন্ধুতাকে সঙ্গী করেই মাঠের লড়াইয়ে ব্রাজিল। প্রাধান্য বিস্তারের ম্যাচে ব্রাজিল দ্বিতীয় গোলটি পায় ম্যাচের ৫২ মিনিটে। এই গোলটি আসে ফিরমিনহোর পা থেকে। খেলাটা খুব সহজেই জিততে পারতো ব্রাজিল। তবে ৮৪ মিনিটে ভেনেজুয়েলার গোল ম্যাচে নিয়ে আসে ক্ষণিকের উত্তেজনা। কিছুটা স্নায়ুক্ষয় হলেও শেষ পর্যন্ত জয় দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি ব্রাজিলকে।