মেইন ম্যেনু

ঘরে ঢুকে শিশুকে নিয়ে গেল শিয়াল

ঘরের ভেতরে ঢুকে ছোট্ট মশারি সরিয়ে এক মাস দুদিন বয়সী এক শিশুকে মুখে নিয়ে চম্পট দিল শিয়াল। ঘটনার ৩৮ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও শিশুটির কোনো খোঁজ মেলেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, শিশুটিকে মেরে খেয়ে ফেলেছে ঘাতক শিয়াল।

২০১৫ সালের শেষ রাতে দুর্ভাগ্যজনক এ ঘটনা ঘটে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নদীয়া জেলার শান্তিপুরে।

শান্তিপুরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদকিপাড়ার কিছুটা দূরে গঙ্গার ধারে ঝোপ ঝঙ্গলে ঘেরা এলাকায় রামপ্রসাদ বিশ্বাসের বাড়ি। পেশায় তাঁতি এই পরিবার। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাজারের দিকে গিয়েছিলেন রামপ্রসাদ বিশ্বাস। সেই সময় বাড়িতে ছিলেন রামপ্রসাদের মা নীলিমা ও স্ত্রী চম্পা। এ ছাড়া চম্পার দুই মেয়ে ছিল বাড়িতে। মেয়ে দুটির একটির বয়স তিন বছর, অপরটির এক মাস দুদিন। টালির চালের টিন দিয়ে ঘেরা বাড়িতে একটি ঘরে বড় নাতনিকে নিয়ে সেই সময় শুয়ে ছিলেন দাদি নীলিমা বিশ্বাস। অন্য ঘরে ছোট মেয়েকে নিয়ে শুয়েছিলেন চম্পা বিশ্বাস।

রাতে স্বামী বাজারে যাওয়ার পর বাড়ির কাজের জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে যান চম্পা। ঘরের দরজা সামান্য ভেজিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর বাইরের কাজ সেরে ঘরে ফিরে দেখেন ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে একটি শিয়াল। তার মুখে কিছু একটা রয়েছে। তড়িঘড়ি করে ঘরে ঢুকে চম্পা দেখতে পান, মেয়েকে ঢেকে রাখা ছোট্ট মশারিটি মেঝেতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। ঘরে মেয়ে নেই। এরপরেই চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন তিনি। ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। খবর পেয়ে বাজার থেকে ফিরে আসেন স্বামী রামপ্রসাদ বিশ্বাসও। সবাই মিলে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তারপর বাড়ির পাশের কাছের একটি জঙ্গল থেকে পাওয়া যায় শিশুটিকে জড়িয়ে রাখার তোয়ালেও। এর কিছুটা দূরে মেলে শিশুটির টুপি, যা রক্ত মাখা অবস্থায় উদ্ধার হয়। এর পরেই মেয়েকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিশ্বাস দম্পতি।

এদিকে নতুন বছরের সকালেই এই ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। শিয়ালে শিশু নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কে এখন এলাকার মানুষজন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন, সন্ধ্যা নামতেই এই এলাকায় শিয়ালের উপদ্রব দীর্ঘদিনের। এমনকি দিনের বেলাতেও শোনা যায় শিয়ালের হুক্কা হুয়া ডাক। মাঝেমধ্যেই গৃহস্থের বাড়ি থেকে হাঁস-মুরগি নিয়ে যায় শিয়াল। কিন্তু এবার খোদ একটা শিশুকে যেভাবে শিয়ালে তুলে নিয়ে গেল, তাতে এখন রীতিমতো শিয়ালের ভয়ে কাঁপছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



« (পূর্বের সংবাদ)