মেইন ম্যেনু

ঘাটাইলে বন বিভাগের জমি পিপলস হ্যাচারির দখলে

ঘুষ বাণিজ্যে বন বিভাগের গেজেটভুক্ত জমি চলে গেছে পিপলস হ্যাচারির হাতে। বিট কর্মকর্তার পকেট ভারি করে তোলা হচ্ছে হ্যাচারির অবৈধ স্থাপনা। ইতোমধ্যে প্রাচীর দিয়ে বন বিভাগের ৫ একর জমিতে করা হয়েছে বহুতল ভবনের ভিত্তিস্থাপন। হ্যাচারি থেকে বলা হয়েছে, জমি তাদের সম্পূর্ণটাই ক্রয়কৃত সম্পত্তি। সে হিসেবেই বাউন্ডারি করা হচ্ছে। ফলে এক দিকে হারিয়ে যাচ্ছে বন এবং অন্যদিকে প্রকৃতি হারাচ্ছে তার পরিবেশ।

এলাকাবাসী জানায়, পিপলস হ্যাচারির সঙ্গে বিট কর্মকর্তা খলিলুর রহমান ও স্থানীয় আ.লীগ নেতা দুলাল ও মোস্তফার গোপনে বিনিময় চুক্তি হয়েছে। যে কারণে পিপলস হ্যাচারি আ.লীগ নেতাদের সহযোগিতায় ধলাপাড়া বিটের মুরাইদ মৌজায় বন বিভাগের প্রায় ৫ একর জমি দখল করে। ইতোমধ্যে জমিতে ইটের পাকা বাউন্ডারি নির্মাণ করা হয়েছে। ৬ মাস ধরে প্রকাশ্যে বাউন্ডারি নির্মাণকাজ করলেও বিট কর্মকর্তা খলিলুর রহমান মাঝে মধ্যে উচ্ছেদের পাঁয়তারা ছাড়া আরা কিছুই দেখাতে পারেনি। গত ৭ ও ৯ জুন সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, বেশ জোরেশোরেই বাউন্ডারি নির্মাণকাজ চলছে। ঘটনাস্থল থেকে মুঠোফোনে বিট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, বাউন্ডারি নির্মাণকাজের পাশে বিট কর্মকর্তা চায়ের দোকানে খোশগল্পে মেতেছেন। বন বিভাগের জমিতে কীভাবে পাকা বাউন্ডারি নির্মাণ করছেন, আ.লীগ নেতা মোস্তফার কাছে জানাতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই আমি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। হ্যাচারির সঙ্গে আমাদের একটা কন্ট্রাক হয়েছে। দয়া করে পত্রিকায় লিখবেন না। আবার ৯ জুন সরজমিন গেলে মোস্তফা প্রতিবেদকে দেখে তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, কথা না মানলে কিছু টাকা খরচ করানো ছাড়া কিছুই করতে পারবেন না। পিপলস হ্যাচারির এডমিন নাছের জানান, হ্যাচারির থেকে বলা হয়েছে এটা সম্পূর্ণটাই ক্রয়কৃত সম্পত্তি। সে হিসেবেই বাউন্ডারি করা হচ্ছে। বন বিভাগের জমি ক্রয় করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ধলাপাড়া বিট কর্মকর্তা খলিলূর রহমান জানান, হ্যাচারির আশকারায় স্থানীয় নেতারা কথা মানতে চায় না। আপনি জানালেন আমি স্যারকে বলে কাজ বন্ধ করার ব্যবস্থা করতেছি। ধলাপাড়া রেঞ্চ কর্মকর্তা আবু জাফর জানান, আমি মাত্র কয়েক দিন আগে ঘাটাইলে যোগদান করেছি। আমি এখনো অনেক কিছুই জানি না। তবে শুনেছি আমাদের কিছু জমি ভেতরে রেখে হ্যাচারির কিছু দুষ্কৃতকারী বাউন্ডারি নির্মাণ করছে। কাগজপত্র দেখে শক্ত হাতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে পিপলস হ্যাচারির মালিক মাহবুবের সঙ্গে মুঠোফোনে অনেক বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।