মেইন ম্যেনু

ঘাস খেয়ে ছাগলের সঙ্গে বসবাস!

পাহাড়ের পাদদেশে শতশত ছাগল ঘাস খাচ্ছে। এরমধ্যে ‘একটা’ একটু উঁচু দেখে ভিমড়ি খেতেই পারেন। আসলে দেখতে মানুষের মতো। আরো একটু চোখ কচলে দেখবেন মানুষের মতো নয়, মানুষই! ছাগলের পালে ঘাস খাওয়া ব্রিটেনের তরুণ কনসেপ্ট ডিজাইনার টমাস থোয়েটস।

না, একেবারে স্থায়ীভাবে ‘ছাগলজীবন’ বেছে নেননি তিনি। তবে টানা ছয়দিন সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ে ছাগল হিসেবে জীবন কাটিয়েছেন। একটি গবেষণায় অংশ নিতেেই মূলত ছয়দিন মানুষের জীবন বাদ দিয়ে তিনি এ কাজ করেছেন।

গণমাধ্যম বিবিসিতে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে টমাস বলেন, ‘একটা সময় আমার ভাল যাচ্ছিল না। বেশ মনমরা লাগছিল। আমার ভাইঝির কুকুরটার দেখাশোনা করছিলাম। কুকুরটা মহা উৎসাহে লাফাচ্ছিল– হৈচৈ করছিল। হঠাৎ মনে হল– ইস, ওর মত যদি হতে পারতাম- সব ভুলে আনন্দে থাকতে পারতাম। কেন জানি না মনে হল – মানুষ না হয়ে জন্তু হয়ে জন্মালেই ভাল হতো- শুরুটা সেখান থেকেই।’

টমাসের তখনই প্রথম মনে হল আসলে জীবজন্তুর জীবন- তাদের মনস্তত্ব- তাদের আচরণ ভালভাবে বুঝতে চান তিনি। একবার সরেজমিনে পরীক্ষা করে দেখতে চান মানুষের সাথে তাদের কতটা পার্থক্য।
‘আসলে ছোটবেলাতেও মাঝে মাঝে আমার মনে হতো – বিড়াল হয়ে জন্মালে কী মজা হতো- স্কুলে যেতে হতো না!’
তার ভাবনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি ওয়েলকম ট্রাস্টের কাছে ফান্ডের জন্য আবেদন জানান। ট্রাস্টও টমাসকে তাদের চারুকলা তহবিল থেকে সামান্য কিছু অর্থ দেয় তার অভিনব এই পরীক্ষা চালানোর জন্য।

কিন্তু আর সব জন্তু ছেড়ে ছাগল কেন? জীবজন্তুর মনস্তত্বসহ তাদের জীবন বোঝাই ছিল টমাসের মূল লক্ষ্য। টমাস বলেছেন এর সহজ কোনো উত্তর নেই। তার গবেষণায় তিনি দেখেছিলেন নানা গুহা চিত্রে অর্ধ-মানব অর্ধ-পশুর নানাধরনের ছবি। সেখানে অর্ধেক-নর অর্ধেক ছাগলের ছবি ছিল অনেক। এর থেকে তার মনে হয়েছিল গুহা মানব কী জীব-জন্তুর আচরণের কোনো প্রতিফলন তাদের জীবনে দেখতে চাইত? তারা কী জীবজন্তুর কিছু আচরণ আয়ত্ত করতে চেয়েছিল? সেগুলো কী এটাই তিনি বুঝতে চেয়েছিলেন।

‘আমি সুইজারল্যান্ডে আল্পস পাহাড়ে একটা ছাগলের খামারে কিছুদিন সময় কাটালাম এই প্রকল্পের অংশ হিসাবে। যারা নকল হাত পা বানান তাদের দিয়ে আমি ছাগলের নকল পায়ের খুর বানালাম- চারপায়ে সহজে হাঁটার জন্য দুটো হাতে নকল বাড়তি অংশ লাগালাম। শুধু তাই নয় আমাকে যেহেতু কটা দিন শুধু ঘাস খেয়ে কাটাতে হবে – তাই সেলুলোজ হজম করার জন্য আমাকে শরীরে আলাদা পাকস্থলীও লাগাতে হল।’

টমাস বলেন ছাগলের শারীরবিদ্যা, অ্যানাটমি, মনস্তত্ত্ব সব কিছু নিয়েই তাকে অনেক পড়াশোনা করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এরপর শুরু হল ছাগলের সঙ্গে আমার বসবাস। ছাগলের খামারে ছাগলের সঙ্গে আমার মেলামেশা- খাওয়া-দাওয়া এবং ওঠাবসা- আমার ছাগলজীবন যাপন।’

ব্রিটিশ তরুণ টমাস থোয়েটস ছাগলের জীবন বুঝতে ছাগল হিসাবে কাটিয়েছিলেন ছয় দিন। তার কথায়, ‘আমি চেয়েছিলাম মনুষ্য জীবনের নানা গ্লানি, সমস্যা-মুক্ত হয়ে ক’টা দিন পশুর মত আনন্দে কাটাতে।’