মেইন ম্যেনু

‘ঘুম থেকে উঠে দেখলে তুমি গর্ভবতী, তখন কী করবে?’

উচ্চশিক্ষার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো সীমিত সংখ্যক আসন। যে পরিমাণ শিক্ষার্থী, সে পরিমাণ আসনের ব্যবস্থা নেই। বাংলাদেশের মতো এই সমস্যা প্রকট ভারতেও। এমন অবস্থায় কলেজ ভর্তির জন্য উদ্ভট এবং আপত্তিকর সব প্রশ্ন করা হয়েছে ভারতের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় কলেজে। কোয়ার্টজ ইন্ডিয়ার খবরে জানা গেল, কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের এসব প্রশ্ন করা নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

কিছু কিছু কলেজে সাক্ষাৎকারে, কিছু কিছু কলেজে সরাসরি প্রশ্নপত্রেই রয়েছে এসব উদ্ভট জিজ্ঞাসা। প্রশ্ন হতে পারে যে, এগুলো আসলেই কোনো উত্তরযোগ্য প্রশ্ন কি না, আবার এগুলোকে সরাসরি আপত্তিকর বা মানহানিকরও বলা যেতেই পারে।

শীর্ষস্থানীয় কিছু কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের করা হয়েছে এ ধরনের প্রশ্ন। এই শিক্ষার্থীরা পরে অনলাইনে জানিয়েছেন তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা, অনেকে নিজের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। কিছু প্রশ্নের নমুনা নিচে দেওয়া হলো-

১. আইএসআইএস এর নিয়োগ পদ্ধতি এবং মানব সম্পদ বিভাগের গঠন কী রকম?

(ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট [আইআইএম], লখনৌ)

২. কোনো একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলে তুমি গর্ভবতী। তখন কী করবে?
(ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট [আইআইএম], লখনৌ-শিক্ষার্থী নিজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)

৩. অকাট্য সত্য বলতে কী বোঝায়?

(ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট [আইআইএম], লখনৌ-নিশান্ত আগরওয়াল)

৪. বাইরে আবহাওয়া কেমন?

( সেইন্ট স্টিফেন’স কলেজ-করন সেহগাল [উল্লেখ্য, সাক্ষাৎকারে এই শিক্ষার্থীকে এই একটি প্রশ্নই করা হয়েছে!]

৫. আমাদের কলেজে এয়ার কন্ডিশনার কয়টা আছে?

( সেইন্ট স্টিফেন’স কলেজ- শিক্ষার্থী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)

৬. সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলে তোমার মায়ের রুম থেকে একজন অচেনা লোক বেরিয়ে আসছে, তুমি কী করবে?

(আইআইএম কলকাতা-শিক্ষার্থীটি নাম প্রকাশে রাজি হয়নি)

৭. নিজেকে গরু হিসেবে ধরে নিয়ে একটি গল্প বল।

(এক্সএলআরআই, পুল্কিত আগরওয়াল)

৮. প্রমাণ কর যে, ১=২

৯. কীভাবে ৩০ সেকেন্ডে অক্টোপাসের স্যুপ বানানো যায়?

এমন বিচিত্র প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি বহু শিক্ষার্থী। আবার, এসব উদ্ভট প্রশ্নকেই শিক্ষার্থী ভর্তির ‘একমাত্র পথ’ হিসেবে মানছেন কিছু শিক্ষার্থী। সে বিষয়ে তাঁদের ব্যাখ্যাও রয়েছে।

‘আমার টুয়েলভ গ্রেড পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর যদি ৯৫% হয় আর আরেকজনের হয় ৯৬%, তখন আমাদের মধ্যে কে আসলে যোগ্যতর-এটা বোঝার উপায় কি কোনো কলেজের আছে’? এই প্রশ্ন তুলেছেন পুলকিত আগরওয়াল। ‘তাদের আসলে এ রকম উদ্ভট প্রশ্ন করাই যুক্তিযুক্ত, যাতে আমরা প্রথাগত চিন্তার বাইরে এবং আমাদের কমফোর্ট জোনের বাইরে থেকে কোনো পরিস্থিতি নিয়ে ভাবতে ও মোকাবিলা করতে পারি কি না সেটা পরখ করা যায়’- যোগ করেন পুলকিত।

এ কথাকে উড়িয়ে দেওয়ারও উপায় নেই। সাম্প্রতিক সময়ে টুয়েলভ গ্রেডের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত নম্বর। দেখা গেছে যে সিট খুবই সামান্য, অন্যদিকে উঁচু নম্বর পেয়েছে অজস্র শিক্ষার্থী। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা ধরা যেতে পারে। এখানে ভালো বিষয়ে ভর্তি হলে টুয়েলভ গ্রেডের পরীক্ষায় প্রায় ১০০% নম্বর থাকতে হবে শিক্ষার্থীদের।

উল্লিখিত কলেজগুলোয় এ বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য যোগাযোগ করা হয়। একইসাথে ইমেইলও করা হয়। তবে কোনো কলেজই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি, এমনকি ফোন কলও রিসিভ করেনি বলে জানিয়েছে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম।